নিজস্ব প্রতিবেদক: ২৫ নভেম্বর ২০২৫ , ২:৪১:১৯ প্রিন্ট সংস্করণ
লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের সময়সূচি এবং চট্টগ্রাম বন্দরের দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্তকে “গভীর উদ্বেগজনক” বলে আখ্যায়িত করেছেন। সোমবার (২৪ নভেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক ইংরেজি বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিচ্ছে এমন একটি সরকার, “যাদের জনগণের নির্বাচনী ম্যান্ডেট নেই।”
তারেক রহমান বলেন, এলডিসি উত্তরণে রপ্তানি শুল্ক সুবিধা কমে গেলে সাধারণ মানুষের জীবন ও জীবিকায় গভীর প্রভাব পড়বে। তিনি উদাহরণ হিসেবে গাজীপুরের এক ছোট পোশাক কারখানার মালিকের পরিস্থিতি উল্লেখ করেন—দীর্ঘদিনের ব্যবসা হঠাৎ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, অর্ডার কমে যাওয়া, শ্রমিকদের বেতন দিতে সংকট তৈরি হওয়া ইত্যাদি।
এছাড়া নারায়ণগঞ্জের এক কর্মজীবী পরিবারের পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, “রপ্তানি কমলে প্রথমে ওভারটাইম কমানো হয়, পরে শিফটে কাটছাঁট, শেষে চাকরি হারানোর ঝুঁকি তৈরি হয়। এসব সংকট সংবাদ শিরোনামে না এলেও লাখো মানুষের জীবনে নীরবে ধাক্কা দেয়।”
তারেক রহমান অভিযোগ করেন, ২০২৬ সালের নির্ধারিত এলডিসি উত্তরণের সময়সূচি “সম্পূর্ণ রাজনৈতিক” সিদ্ধান্ত, যা নিচ্ছে একটি অন্তর্বর্তী সরকার, “যাদের ভোট নেই।”
তিনি প্রশ্ন রাখেন—“কেন আন্তর্জাতিক আলোচনায় যাওয়ার আগেই নিজেদের দর–কষাকষির শক্তি দুর্বল করা হচ্ছে? কেন বিকল্প পথগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে?”
তার বক্তব্যে উঠে আসে ব্যাংকিং খাতের চাপ, বৈদেশিক মুদ্রার অস্থিরতা, ঋণের ঝুঁকি ও রপ্তানি কমে যাওয়ার মতো চ্যালেঞ্জগুলো, যা তার মতে প্রমাণ করে—“শুধু অধিকার পাওয়াই যথেষ্ট নয়, প্রস্তুতি ছাড়া কোনো উত্তরণ টেকসই নয়।”
তারেক রহমান চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল ও পানগাঁও নৌ টার্মিনালের পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশি কোম্পানির কাছে দেওয়ার সিদ্ধান্তকেও কৌশলগত ঝুঁকি বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, এসব সিদ্ধান্ত দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাগত স্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত।
তার ভাষায়, “এটি কোনো ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়, এটি দেশের প্রতিষ্ঠান ও গণতান্ত্রিক আদর্শ রক্ষার বিষয়। একটি অনির্বাচিত সরকার দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার রাখে না।”
ফেসবুক পোস্টে তিনি স্পষ্ট করেন, বাংলাদেশের মানুষ নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে কখনো নীরব নয়। জনগণ সম্মান, অংশগ্রহণ এবং নিজের কণ্ঠের মূল্যায়ন চায়।
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনকে তিনি “জনগণের কথা বলার ও দেশকে বেছে নেওয়ার সুযোগ” হিসেবে উল্লেখ করেন। তারেক রহমান বলেন, “দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবেন এই দেশের মানুষই—যারা বিশ্বাস করে, ‘সবার আগে বাংলাদেশ।’”




















