আন্তর্জাতিক

গাজার সামনে কঠিন পথ

  প্রতিনিধি ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫ , ৩:৩২:২৭ প্রিন্ট সংস্করণ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজা শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ইসরায়েল ও হামাস উভয়ের কঠিন সিদ্ধান্তের মুখে অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। মার্কিন মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির দুই মাস পেরিয়ে গেলেও গাজা এখন পরিকল্পনার প্রথম ধাপেই আটকে আছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত এই অঞ্চলের মানুষ এখনও বাস্তুচ্যুত, ধ্বংসস্তূপের মাঝে বসবাস করছে।

গাজার বাসিন্দারা চরম দুর্দশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। ভারী বৃষ্টিতে তাঁবুতে জল ঢুকছে এবং বেশ কয়েকটি ভবন ধসে পড়েছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, শক্তিশালী শীতকালীন ঝড়ে গাজার ৮ লাখেরও বেশি মানুষ বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছেন।

ট্রাম্পের শান্তি চুক্তির পরবর্তী ধাপে নতুন বাড়ি নির্মাণ এবং নতুন সরকার গঠনের পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত রয়েছে। এর প্রধান কারণ, ৭ অক্টোবরের হামলায় অপহৃত ইসরায়েলি পুলিশ অফিসার রান গভিলির খোঁজ এখনও পাওয়া যায়নি।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জোর দিয়ে বলেছেন, হামাসকে অবশ্যই সব জীবিত ও মৃত জিম্মিকে ফিরিয়ে দিতে হবে, তবেই কেবল চুক্তির পরবর্তী কঠিন পর্যায়ে যাওয়া সম্ভব। রান গভিলির বাবা-মা মনে করেন, হামাস তাদের ছেলেকে ভবিষ্যতের আলোচনার জন্য ‘বীমা পলিসি’ হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে। রান গভিলির সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলি সরকার পরবর্তী পদক্ষেপে যাবে না বলে তার পরিবার আশা করছে। রাজনৈতিক কারণে, একজন জিম্মিও নিখোঁজ থাকলে ইসরায়েলের পক্ষে সামরিক বাহিনী গাজার পরিধি থেকে আরও পেছনে সরিয়ে নেওয়া কঠিন হবে।

চুক্তির পরবর্তী ধাপে ইসরায়েল ও হামাস উভয়কেই কঠিন ছাড় দিতে হবে। হামাসের জন্য এর অর্থ ক্ষমতা ও অস্ত্র সমর্পণ, আর ইসরায়েলের জন্য আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীর কাছে নিরাপত্তা হস্তান্তর।

ইসরায়েলের অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল ইসরায়েল জিভ মনে করেন, উভয়পক্ষই দ্বিতীয় ধাপে দ্রুত যেতে চাইছে না। হামাস নিয়ন্ত্রণ হারাতে চাইছে না, অন্যদিকে ইসরায়েল রাজনৈতিক কারণে গাজায় থাকতে পছন্দ করছে। তিনি বলছেন, সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে এবং ট্রাম্পই একমাত্র এই প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেন, কারণ দেরি হলে হামাস পুনরায় সংগঠিত হওয়ার সুযোগ পাবে।

হামাসকে নিরস্ত্রীকরণ করা প্রথম বড় চ্যালেঞ্জ। এটি ছাড়া কোনো বিদেশি দেশ গাজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনা পাঠাতে রাজি হবে না এবং পুনর্নির্মাণও শুরু হবে না। ট্রাম্প দ্রুত এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে আগ্রহী এবং তিনি আগামী বছরের শুরুতে গাজার জন্য একটি নতুন ‘বোর্ড অব পিস’-এর সদস্য ঘোষণা করবেন।

বর্তমানে গাজা ‘হলুদ রেখা’ দ্বারা দুটি অংশে বিভক্ত। যদি চুক্তির দ্বিতীয় ধাপ ব্যর্থ হয়, তবে এই বিভাজন আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা গাজার জন্য এক কঠিন ভবিষ্যতের ইঙ্গিত।

আরও খবর

Sponsered content