মোঃ সাইফুল ইসলাম (শরীয়তপুর) প্রতিনিধি ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ , ১১:৫৯:৫৬ প্রিন্ট সংস্করণ
শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর বাল্যবিবাহের আয়োজন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। রবিবার (রাত ১০টা) উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ রৌশন আহমেদের নেতৃত্বে এই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়।
মোবাইল কোর্ট সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নাগেরপাড়া ইউনিয়নের পখমসার গ্রামে একটি বাল্যবিবাহের আয়োজন চলছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়। পরে ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ রৌশন আহমেদ গোসাইরহাট থানার পুলিশের একটি দল নিয়ে কনের বাড়িতে উপস্থিত হন।
সেখানে দেখা যায়, একই উপজেলার ইদিলপুর ইউনিয়নের বাসুদেবচাপ গ্রামের মোঃ শামীম হোসেন (৩২)-এর সঙ্গে ১৫ বছর বয়সী ওই ছাত্রীর বিয়ের আয়োজন চলছিল। তবে ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের উপস্থিতির খবর পেয়ে বর ও কাজী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
কনে অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বিয়ের আয়োজন বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে কনের মাকে বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে বোঝানো হলে তিনি নিজের ভুল বুঝতে পারেন। এ ঘটনায় নাবালিকা কন্যাকে বিয়ে দেওয়ার দায়ে কনের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং অভিভাবকের কাছ থেকে লিখিত মুচলেকা নেওয়া হয়—যেন প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত মেয়েকে বিয়ে দেওয়া হবে না।
পাশাপাশি ওই শিক্ষার্থী যাতে নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করার দায়িত্ব স্থানীয় জনপ্রতিনিধিকে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ রৌশন আহমেদ বলেন,
“জনস্বার্থে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।”
অভিযানকালে মোবাইল কোর্টকে সহযোগিতা করেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শাহানা পারভীন ও জেন্ডার প্রমোটার তানজিলা আফরিন।




















