জাতীয়

জানুয়ারিতে সড়কে ঝরল ৪৮৭ প্রাণ, বেশি মোটরসাইকেল আরোহী

  প্রতিনিধি ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ২:১২:৫০ প্রিন্ট সংস্করণ

নতুন বছরের জানুয়ারিতেই দেশের সড়কে চলেছে মরদেহের মিছিল। মাসজুড়ে ৫৫৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৪৮৭ জন, আর আহত হয়েছেন ১ হাজার ১৯৪ জন। নিহতদের বড় একটি অংশই ছিল মোটরসাইকেল আরোহী এবং পথচারী।

আজ বৃহস্পতিবার রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পাঠানো এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

মূলত ৯টি জাতীয় দৈনিক, ৭টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ার তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারিতে মোট দুর্ঘটনার ৩৭.২০ শতাংশই ছিল মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা। ২০৮টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৯৬ জন, যা মোট নিহতের ৪০.২৪ শতাংশ। এছাড়া যানবাহনের চাপায় বা ধাক্কায় ১৩২ জন পথচারী নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ২৭.১০ শতাংশ।

এদিকে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন বলছে, সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে আঞ্চলিক সড়কে (৩৭.০৩%)। জাতীয় মহাসড়কে দুর্ঘটনা ঘটেছে ২৭.৯০ শতাংশ। এছাড়া শহরের সড়কে ১৮.৪২ শতাংশ এবং গ্রামীণ সড়কে ১৫.২০ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

দুর্ঘটনার ধরণ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ৩৭.৩৮ শতাংশ ক্ষেত্রে চালক নিয়ন্ত্রণ হারানোয় দুর্ঘটনা ঘটেছে। মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে ২৪.১৫ শতাংশ এবং পথচারীকে চাপা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে ২৪.৫০ শতাংশ।

এছাড়া ভৌগোলিক হিসেবে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। এই বিভাগে ১৪৩টি দুর্ঘটনায় ১১৯ জন নিহত হয়েছেন।

অপরদিকে সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে সিলেট বিভাগে; ২৪টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৮ জন। একক শহর হিসেবে রাজধানী ঢাকায় ২৬টি দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত ও ৪১ জন আহত হয়েছেন।

গত বছরের (২০২৫) জানুয়ারির তুলনায় চলতি বছরের জানুয়ারিতে দৈনিক গড় মৃত্যু ১৯.৬১ থেকে কমে ১৫.৭০ জনে দাঁড়িয়েছে। প্রাণহানি প্রায় ২০ শতাংশ কমলেও একে ‘টেকসই উন্নতি’ বলতে নারাজ রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।

সংস্থাটির মতে, সড়ক পরিবহন ব্যবস্থাপনায় কোনো দৃশ্যমান উন্নতি হয়নি। দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে বেপরোয়া গতি, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, চালকদের অদক্ষতা এবং ট্রাফিক আইনের দুর্বল প্রয়োগকে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশেষ করে চালকদের নিয়োগপত্র, নির্দিষ্ট বেতন ও কর্মঘণ্টা না থাকায় তাদের শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতা দুর্ঘটনা বাড়াতে ভূমিকা রাখছে।

তবে, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ১০ দফা সুপারিশ করেছে সংগঠনটি। এর মধ্যে রয়েছে- দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ বৃদ্ধি ও তাদের বেতন-কর্মঘণ্টা নির্ধারণ; বিআরটিএর সক্ষমতা বৃদ্ধি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা; মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহনের জন্য আলাদা সার্ভিস রোড নির্মাণ; সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ এর বাধাহীন বাস্তবায়ন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গণপরিবহন খাতে চাঁদাবাজি বন্ধ এবং টেকসই পরিবহন কৌশল প্রণয়ন করা না গেলে সড়কের এই সংঘাত কমানো সম্ভব নয়।

আরও খবর

Sponsered content