রাজধানীর তেজগাঁও থানাধীন পশ্চিম নাখালপাড়া এলাকায় কিশোর গ্যাং ‘শান্ত বাহিনী’ স্থানীয়দের জন্য আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। মাদক ব্যবসা, চুরি, ছিনতাইসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়া এই গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্যে এলাকায় চরম নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নাখালপাড়ার পাগলারপুল সংলগ্ন ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নিচের নির্জন এলাকা গ্যাংটির ‘সেফ জোন’ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। দিনের বেলাতেই সেখানে দলবেঁধে মাদক সেবন ও বিক্রি চলছে। স্থানীয়দের দাবি, ইয়াবা ও গাঁজা বিক্রির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এই বাহিনীর প্রধান শান্ত। কিশোরদের নানা প্রলোভন দেখিয়ে দলে ভেড়ানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, অতীতে প্রভাবশালী মহলের মদতে শান্ত বারবার গ্রেফতার হয়েও দ্রুত ছাড়া পেয়ে যেত। পুলিশের রেকর্ডে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় সে আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে।
গ্যাংটির অপরাধের ধরনও বদলেছে। সন্ধ্যার পর এলাকায় সক্রিয় হয়ে ওঠা এই চক্র সম্প্রতি নতুন কৌশলে ছিনতাই করছে বলে অভিযোগ। অন্য এলাকার কিশোরদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলে তাদের নাখালপাড়ায় এনে অস্ত্রের মুখে মোবাইল ও টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এমন একটি ঘটনার বর্ণনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।
এলাকার এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “সন্ধ্যার পর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বাইরে বের হতে ভয় লাগে। কেউ প্রতিবাদ করলে তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়। আমরা এই গ্যাং কালচারের অবসান চাই।”
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয় কমিউনিটি পুলিশের এক সদস্য জানান, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এই গ্যাং প্রায়ই প্রতিপক্ষের ওপর হামলা চালায়। তাদের কাছে দেশীয় অস্ত্র ছাড়াও আগ্নেয়াস্ত্র থাকার অভিযোগ রয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
এ বিষয়ে তেজগাঁও থানা পুলিশের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, “অপরাধীদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই। কিশোর গ্যাং হোক বা অন্য কোনো অপরাধী দল—কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। নাখালপাড়া এলাকায় পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে এবং শান্তসহ এই বাহিনীর সদস্যদের গ্রেফতারে বিশেষ অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি চলছে।”
রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনতে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন নাখালপাড়ার বাসিন্দারা।