মো. সাকিব চৌধুরী, স্টাফ রিপোর্টার: ৬ এপ্রিল ২০২৬ , ৩:২০:৩০ প্রিন্ট সংস্করণ
রংপুর জেলায় জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এতে অধিকাংশ ফিলিং স্টেশন কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে এবং তেল না পেয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন চালকরা।
সোমবার (৬ এপ্রিল) রংপুর জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, পেট্রোল ও অকটেন সরবরাহ বন্ধ থাকায় মেশিনগুলো অলস পড়ে রয়েছে। অনেক স্টেশনে ‘অকটেন ও পেট্রোল নেই’ লেখা নোটিশ টানানো হয়েছে, কোথাও আবার প্রবেশপথ দড়ি দিয়ে বন্ধ করে রাখা হয়েছে। কিছু স্টেশন খোলা থাকলেও সেখানে কেবল সিএনজি সরবরাহ করা হচ্ছে।
যে কয়েকটি স্টেশন খোলা রয়েছে, সেখানে যানবাহনের দীর্ঘ সারি ও উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তেল পাচ্ছেন না চালকরা। এতে অনেক মোটরসাইকেল ও যানবাহন অচল হয়ে পড়েছে।
ফিলিং স্টেশন সংশ্লিষ্টরা জানান, ডিপো থেকে রেশনিং পদ্ধতিতে জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে কোনো স্টেশনই দুই ঘণ্টার বেশি তেল দিতে পারছে না। দিনের বেশিরভাগ সময় স্টেশনগুলো বন্ধ রাখতে হচ্ছে।
মোটরসাইকেল চালকদের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে ২০০ টাকার বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না। এতে দীর্ঘ দূরত্ব যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এক স্টেশন থেকে আরেক স্টেশনে ঘুরতে গিয়ে বরং আরও তেল নষ্ট হচ্ছে।
রংপুর মহানগরীতে অর্ধশতাধিক ফিলিং স্টেশন থাকলেও সোমবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত একটি ছাড়া অধিকাংশ স্টেশনেই তেল সরবরাহ বন্ধ ছিল।
একাধিক স্টেশন ঘুরে জানা যায়, পার্বতীপুর ডিপো থেকে তেল আনতে পাঠানো ট্যাংক-লরিগুলো এখনো ফিরে আসেনি। ফলে কবে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হবে তা নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
নগরীর বিভিন্ন স্টেশনে তেল আসার খবরে শত শত মোটরসাইকেল চালক লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন। অনেকের গাড়ির তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় তারা সেখানেই আটকে পড়েছেন।
ফিলিং স্টেশন মালিকরা জানান, দৈনিক চাহিদার তুলনায় অর্ধেক তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। যেমন কোনো স্টেশনের দৈনিক চাহিদা চার থেকে পাঁচ হাজার লিটার হলেও সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র দুই হাজার লিটার। এতে অল্প সময়েই তেল শেষ হয়ে যাচ্ছে।
সালেক ফিলিং স্টেশনের আশরাফ হোসেন বলেন, “চাহিদার তুলনায় অর্ধেক তেল পাচ্ছি। ফলে গ্রাহকদের চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে না।”
একই চিত্র দেখা গেছে শাপলা চত্বর এলাকার ইউনিক ট্রেডার্স ফিলিং স্টেশনেও। কর্মচারীরা জানান, চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না থাকায় স্টেশন বন্ধ রাখতে হচ্ছে।
রংপুর জেলা ফিলিং স্টেশন মালিক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক আশফাক মাহাতাব বলেন, “আগে কোন স্টেশনে কখন তেল দেওয়া হবে তা জানানো হতো, এখন আর তা জানানো হচ্ছে না। সমন্বয়হীনতার কারণে চালকরা এক স্টেশন থেকে আরেক স্টেশনে ঘুরে হয়রান হচ্ছেন।”
তবে রংপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. রমিজ আলম জানান, “জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই। পেট্রোল ও অকটেন নির্ধারিত নিয়মে সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রশাসন বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রেখেছে।”




















