শিক্ষা ও শিক্ষাঙ্গন

শিক্ষক সংকটে জবির আইইআর, তীব্র সেশনজটে বিপাকে শিক্ষার্থীরা

  জবি প্রতিনিধি ১০ জুন ২০২৬ , ৩:২৩:৫০ প্রিন্ট সংস্করণ

 

 

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ইনস্টিটিউট অব এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ (আইইআর) বর্তমানে তীব্র শিক্ষক সংকট ও দীর্ঘস্থায়ী সেশনজটে জর্জরিত। পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকা, পরীক্ষা ও ফলাফল প্রকাশে দীর্ঘসূত্রিতা এবং একাডেমিক কার্যক্রমে ধীরগতির কারণে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন থেকে হারিয়ে যাচ্ছে মূল্যবান সময়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইনস্টিটিউটের ১৬ থেকে ২০ ব্যাচ পর্যন্ত প্রায় সব শিক্ষার্থীই সেশনজটের শিকার। বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য বিভাগের ২০১৬ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা যেখানে মাস্টার্স শেষ করার পর্যায়ে, সেখানে আইইআরের ১৬ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের অনার্স চতুর্থ বর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টারের (৪-২) কার্যক্রমই এখনো শেষ হয়নি। মিডটার্ম পরীক্ষা সম্পন্ন হলেও চূড়ান্ত পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

একইভাবে ১৭ ব্যাচের ৩-২ সেমিস্টারের মিডটার্ম পরীক্ষা গত ১ এপ্রিল শেষ হলেও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও চূড়ান্ত পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ করা হয়নি। ১৮ ব্যাচের আগের সেমিস্টারের ফলাফল এখনো প্রকাশ হয়নি এবং ১৯ ব্যাচের শিক্ষার্থীরাও ফাইনাল পরীক্ষার অপেক্ষায় রয়েছেন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সাধারণ নিয়মে একটি সেমিস্টার ৪ থেকে ৬ মাসের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও আইইআরে একটি সেমিস্টার শেষ করতে ৮ থেকে ৯ মাস পর্যন্ত সময় লেগে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬ থেকে ৭ মাস পর ফলাফল প্রকাশ করা হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী জানান, অধিকাংশ শিক্ষার্থী মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। দ্রুত শিক্ষাজীবন শেষ করে কর্মজীবনে প্রবেশের পরিকল্পনা থাকলেও দীর্ঘ সেশনজট তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তারা দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ, খণ্ডকালীন শিক্ষক বৃদ্ধি, নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা গ্রহণ এবং ফলাফল প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন।

শিক্ষার্থীদের দাবি, বর্তমানে প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থীর জন্য স্থায়ী শিক্ষক রয়েছেন মাত্র পাঁচজন। ফলে ক্লাস, পরীক্ষা ও মূল্যায়ন কার্যক্রম পরিচালনায় চরম সংকট তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে আইইআরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আজম খান বলেন, “শিক্ষক সংকটই আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইইআরে যেখানে ৪০ থেকে ৫০ জন শিক্ষক রয়েছেন, সেখানে আমাদের মাত্র পাঁচজন শিক্ষক দিয়ে অনার্স ও মাস্টার্সের পাঁচটি ব্যাচ পরিচালনা করতে হচ্ছে। ফলে শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “নতুন পদ সৃষ্টিতে ইউজিসি ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রয়োজন হওয়ায় দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ সম্ভব হচ্ছে না। তবে সংকট নিরসনে খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগের চেষ্টা চলছে। নতুন শিক্ষক নিয়োগ দিতে পারলে এখানকার অধিকাংশ সমস্যার সমাধান হবে।”

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দিন বলেন, “আইইআরের শিক্ষক সংকট ও সেশনজটের বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নজরে রয়েছে। শিক্ষার্থীদের সময় নষ্ট হওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। ইউজিসির সঙ্গে যোগাযোগ করে নতুন শিক্ষকের পদ সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আপদকালীন ব্যবস্থা হিসেবে খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগ এবং বিশেষ একাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রণয়নের বিষয়েও আলোচনা চলছে।”

তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীদের সেশনজটমুক্ত ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বদ্ধপরিকর।”

আরও খবর

Sponsered content