আন্তর্জাতিক

বেলুচিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ৮ বিচ্ছিন্নতাবাদী নিহত

  প্রতিনিধি ২৮ জুন ২০২৬ , ১:১০:৫৩ প্রিন্ট সংস্করণ

পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে নিরাপত্তা বাহিনীর পৃথক দুটি অভিযানে আট বিচ্ছিন্নতাবাদী নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির সামরিক বাহিনী। খারান ও মাসতুং জেলায় পরিচালিত এসব অভিযানে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক সামগ্রীও উদ্ধার করা হয়েছে। পাকিস্তানি বার্তাসংস্থা ডনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

শনিবার এক বিবৃতিতে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গণমাধ্যম শাখা আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, ২৫ ও ২৬ জুন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বেলুচিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়।

আইএসপিআরের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব অভিযান ‘ফিতনা আল হিন্দুস্তান’ নামে উল্লেখ করা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে চালানো হয়েছে। পাকিস্তান সরকার ও সামরিক বাহিনী বেলুচিস্তানভিত্তিক বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর ক্ষেত্রে প্রতিবেশী ভারতের কথিত সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে এই নাম ব্যবহার করে থাকে।

সামরিক বাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়, খারান জেলায় একদল সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদীর উপস্থিতির খবর পেয়ে নিরাপত্তা বাহিনী অভিযান চালায়। এ সময় তিনজন বিচ্ছিন্নতাবাদী নিহত হয় এবং আরও কয়েকজন আহত হয় বলে দাবি করা হয়েছে।

অন্যদিকে ২৬ জুন মাসতুং জেলায় সম্ভাব্য আত্মঘাতী হামলাকারীদের উপস্থিতির তথ্যের ভিত্তিতে আরেকটি অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখানে নিরাপত্তা বাহিনী ও সশস্ত্র ব্যক্তিদের মধ্যে তীব্র গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।

আইএসপিআরের দাবি, ওই অভিযানে একজন আত্মঘাতী হামলাকারীসহ মোট পাঁচজন নিহত হয়েছে।

সামরিক বাহিনী আরও জানিয়েছে, অভিযান চলাকালে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল, অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং ঘরে তৈরি বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে।

খারান ও মাসতুং জেলার বিভিন্ন এলাকায় সম্ভাব্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যদের খোঁজে তল্লাশি অভিযানও চালানো হয়েছে বলে জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিদেশি মদতপুষ্ট সন্ত্রাসী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং এ ধরনের হুমকি মোকাবিলায় সেনাবাহিনী দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

এর আগে গত ৯ জুন বেলুচিস্তানের বাসিমা জেলায় পরিচালিত আরেকটি অভিযানে পাকিস্তানের এক সেনাসদস্য নিহত হন। ওই অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনী ১৪ জন বিচ্ছিন্নতাবাদীকে হত্যা করেছে বলে দাবি করেছিল সেনাবাহিনী।

সম্প্রতি বেলুচিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা বেড়েছে। প্রদেশটিতে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী স্বাধীনতা ও অধিক স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছে, যার জেরে অঞ্চলটিতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি প্রায়ই উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে।

আরও খবর

Sponsered content