খেলাধুলা

ইংল্যান্ড নাকি নরওয়ে? পাল্লা কার দিকে বেশি ভারী

  প্রতিনিধি ১১ জুলাই ২০২৬ , ৪:০৭:৪৭ প্রিন্ট সংস্করণ

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মিয়ামির মাঠে প্রথমবারের মতো মুখোমুখি ইংল্যান্ড ও নরওয়ে। ফাইনালের এই খেলা নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে।অপটার সুপার কম্পিউটারের ২৫ হাজার সিমুলেশনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ৬২.৩ শতাংশ সম্ভাবনা নিয়ে কিছুটা এগিয়ে আছে ইংল্যান্ড। বিপরীতে, প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার-ফাইনালে ওঠা নরওয়ের সম্ভাবনা ৩৭.৭ শতাংশ।

গ্রুপ পর্বে ফ্রান্সের কাছে হারলেও, নকআউট পর্বে আইভরি কোস্ট ও বিশ্বকাপের সবচেয়ে সফল দল ব্রাজিলকে হারিয়ে তারা বিশ্বকে চমকে দিয়েছে। আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজানো নরওয়ে এ পর্যন্ত পাঁচ ম্যাচে করেছে ১২ গোল। তবে রক্ষণের দুর্বলতাও স্পষ্ট, কারণ এই সময়ে তারা হজম করেছে ৯ গোল। ১৯৫৪ সালের পর এই প্রথম কোনো দল সেমিফাইনাল জয়ের পথে ১০ গোল করার পাশাপাশি ১০ গোল হজম করার নজির তৈরির দ্বারপ্রান্তে রয়েছে।

নরওয়ের আক্রমণের মূল অস্ত্র আর্লিং হালান্ড। বিশ্বকাপে নিজের প্রথম চার ম্যাচেই গোল করা এই স্ট্রাইকার ১৮ শটে করেছেন সাতটি গোল, যার মধ্যে চারটিই ছিল ম্যাচজয়ী। ২০১৪ সালের পর প্রথম ফুটবলার হিসেবে টানা পাঁচ ম্যাচে গোল করার সুযোগ তার সামনে। নরওয়ের হয়ে ৫৪ ম্যাচে ৬২ গোল করা হালান্ড যেন এক গোলমেশিন।

অন্যদিকে, ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ যাত্রা হয়েছে উত্থান-পতনের। শেষ ষোলোতে মেক্সিকোর বিপক্ষে দুর্দান্ত জয়ের পর আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে আছে থ্রি লায়ন্সরা। অভিজ্ঞতার বিচারে নরওয়ের চেয়ে তারা অনেক এগিয়ে। ১১ বার কোয়ার্টার-ফাইনালে খেলার অভিজ্ঞতা থাকলেও শেষ আটের রেকর্ড খুব একটা সুখকর নয় তাদের জন্য-পূর্বের ১০বারের মধ্যে সাতবারই হেরে বিদায় নিতে হয়েছে ইংলিশদের। তবে হ্যারি কেইন এবং জুড বেলিংহ্যামের ফর্ম ইংল্যান্ডের বড় ভরসা। গোল্ডেন বুটের দৌড়ে থাকা কেইন নকআউট পর্বের ম্যাচে বরাবরই বিধ্বংসী, অন্যদিকে মিডফিল্ডার বেলিংহ্যামও এই বিশ্বকাপে ইতিমধ্যে চার গোল করে রেকর্ড গড়েছেন।

পরিসংখ্যানের লড়াইয়ে ১২ দেখায় আট জয় নিয়ে নরওয়ের চেয়ে বেশ এগিয়ে ইংল্যান্ড। এমনকি সর্বশেষ চার দেখায় নরওয়ে কোনো গোলই করতে পারেনি। তবে নকআউট পর্বে ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের সাম্প্রতিক রেকর্ড বেশ উদ্বেগজনক; শেষ ছয়টি নকআউট ম্যাচের পাঁচটিতেই ইউরোপীয় দলের কাছে হেরে তাদের বিদায় নিতে হয়েছে। আবার বিশ্বকাপে ইউরোপীয় দলের বিপক্ষে নরওয়ের কোনো জয়ের রেকর্ড নেই। সব মিলিয়ে, মায়ামির মাঠে আজ অভিজ্ঞতার লড়াই বনাম তারুণ্যের স্বপ্নের এক ধ্রুপদী দ্বৈরথ দেখার অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব।

আরও খবর

Sponsered content