প্রচ্ছদ

ফরিদগঞ্জে সম্পত্তি জবরদখলের চেষ্টায় অন্তহীন হয়রানি

  নিজস্ব প্রতিনিধি ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ , ৯:৪৬:৪৮ প্রিন্ট সংস্করণ

ফরিদগঞ্জ উপজেলাধীন ৭নং পাইকপাড়া উত্তর ইউনিয়নের কাঁশারা গ্রামে সম্পত্তি জবরদখলের চেষ্টায় অন্তহীন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী একটি পরিবারের বিরুদ্ধে।

ঘটনা সূত্র জানা যায়, পাইকপাড়া মৌজার আরএস ৬৩ খতিয়ান, ৬০১ দাগ, সিএস ৬৫ খতিয়ান, ৬০১ দাগ ও বিএস ৫০৩ খতিয়ান, ৭৩০ দাগে এই জমির মালিক আঃ ছাত্তার(৭৫)- আবু তাহের(৭৫) গং। এবং তারা বংশপরম্পরায় এ জমি ভোগ দখল করে আসছে।

কিন্তু একই এলাকার মাহবুবুর রহমান মিজি ও হাফেজ রহমত উল্লাহ গং সেই জমির উপর দিয়ে যাতায়াত পথ নির্মাণের চেষ্টায় অন্তহীন হয়রানি করে যাচ্ছে পরিবারটির উপর।

সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারী) সরেজমিন জানা যায়, প্রায় দেড় শতাধিক বছরেরও বেশী সময় ধরে এই জমি ভোগ দখল করে আসছে, আঃ ছাত্তার(৭৫)- আবু তাহের(৭৫) গং। খাজনা খারিজসহ সকল কাগজপত্র তাদের পক্ষে। কিন্তু কিছু বছর পূর্বে স্থানীয় মিজি বাড়ি থেকে নেমে এসে তাদের জমির পাশে বসতবাড়ী নির্মাণ করেছে মাহবুব মিজি তার ভাই হাফেজ রহমত উল্লাহ। সেখানে বাড়ি নির্মাণকালে নিজস্ব জমিতে যাতায়াতের সহজ পথ ছিলো তার বাড়ির উত্তর পশ্চিম দিকে। কিন্তু তার ভাই সিদ্দিক সেই জমি বিক্রি করে দেয় পাশের বাড়ির প্রবাসী হুমায়ুনের কাছে। বিক্রিকালে সিদ্দিক তার সহোদর হাফেজ রহমত উল্লাহ ও মাহবুব মিজিকে জমিটি ক্রয় করে রাখতে বললে তারা তা প্রত্যাখ্যান করেন। এই পরিস্থিতিতে কোন প্রকার সমন্বয় না করে জোরপূর্বক অন্যের জমি দখল করে পথ নির্মাণের মতো অন্যায় কিভাবে করছে তারা, তা বোধগম্য হচ্ছেনা বলে জানিয়েছে এলাকাবাসী।

এব্যাপারে ভুক্তভোগী পরিবারের আঃ ছাত্তার (৭৫) এর সাথে কথা হলে তিনি জানান, মাহবুব মিজি আমাদেরকে অসহ্যকর পিড়া দিয়ে যাচ্ছেন। তার নমুনা হিসেবে পারিবারিক সমন্বয় ছাড়া তিনি আমাদেরকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫ বার আইনের মুখোমুখি করেছেন। তাদের যাতায়াতের পথ প্রয়োজন পড়লে তা আমরা দিতে প্রস্তুত। কিন্তু তিনি কিভাবে নিবেন, সেটা আমাদের সাথে পর্যালোচনা না করে শুধু শুধু কেন এভাবে হয়রানি করছেন!

আবু তাহের (৭৫) জানান, ৫ আগষ্ট বিপ্লবের পর গভীর রাতে মাহবুব ও তার ভাই হাফেজ রহমত উল্লাহ আমাদের জমির উপর রাস্তা নির্মাণ করেছে। সকালে আমরা দেখতে পেলে প্রতিবাদ করি ও তা ভেঙ্গে ফেলতে যাই। ভাঙ্গার প্রাক্কালে তারা আমাদের উপর চড়াও হয়, এবং আমি আমার ছেলে ও আমার চাচা আঃ ছাত্তারকে তারা শারীরিক ভাবে নির্যাতন করে। শুধু তা-ই নয়, সরকার পরিবর্তনের পর প্রতিনিয়ত তারা আমাদেরকে বিভিন্নভাবে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। এ নিয়ে ভয়ে দিনাতিপাত করছি আমরা।

অভিযুক্ত মাহবুব মিজির সাথে কথা হলে তিনি জমির মালিকানার ব্যাপারে স্বপক্ষে কোন প্রমাণাদি দেখাতে ব্যার্থহন। এবং তার কথা থেকে জমির কাগজপত্র আঃ ছাত্তার গংদের মর্মে স্বীকারোক্তি পাওয়া যায়।

আলোচনা না করে কেন এসব করছেন প্রশ্নে জানান, আমার পথের প্রয়োজন আমি পথ নেবো।

আরেক অভিযুক্ত হাফেজ রহমত উল্লাহ এর ফোনে একাধিকবার ফোন করলেও তাকে পাওয়া যায়নি বিধায় তার বক্তব্য দেওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ. আর. এম. জাহিদ হাসান এর সাথে কথা বললে তিনি জানান, আগামীকাল আমার সার্ভেয়ার সেখানে যাবে। তিনি দেখে আসার পর সত্য-উদ্ঘাটনপূর্বক যথাযথ ব্যাবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে প্রতিবেদন প্রস্তুত করে পাঠানো হবে।

এমআই

আরও খবর

Sponsered content