সারাদেশ

আম্ফানের ছয় বছর পরও সংস্কার হয়নি গড়ইমহল সড়ক , বাঁশের সাঁকোই সাত গ্রামের মানুষের একমাত্র ভরসা

  সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : ১১ মে ২০২৬ , ৬:৩৬:৫৪ প্রিন্ট সংস্করণ

ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের আঘাতে বিধ্বস্ত হওয়ার ছয় বছর পরও সংস্কার হয়নি সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগরের গড়ইমহল সড়ক। ভাঙা সড়কের স্থানে নির্মিত অস্থায়ী বাঁশের সাঁকো দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন সাত গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ।

দীর্ঘদিনেও স্থায়ী সংস্কার কাজ শুরু না হওয়ায় এলাকাজুড়ে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।

স্থানীয়রা জানান, ২০২০ সালে ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের সময় জলোচ্ছ্বাসের তীব্র স্রোতে গড়ইমহল সড়কের একটি বড় অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এরপর প্রায় পাঁচ বছর এলাকাবাসী নৌকায় পারাপার করে চলাচল করেছেন। পরে ইউনিয়ন পরিষদের সীমিত সহায়তা ও স্থানীয়দের উদ্যোগে সেখানে একটি অস্থায়ী বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়।

এই সড়কটি কুড়িকাহুনিয়া, সনাতনকাঠি, নাকনা, গোকুলনগর, গোয়ালকাটি ও শ্রীপুরসহ সাত গ্রামের মানুষের প্রধান যোগাযোগপথ। প্রতিদিন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী ও রোগীরা এই পথ ব্যবহার করেন। তবে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো পার হতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন পথচারীরা।

স্থানীয় বাসিন্দা রানুফা খাতুন বলেন, “আম্ফানের সময় মাত্র ১৫ মিনিটে আমাদের ৭৬ শতক ভিটাবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে যায়। এখন সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। ভালো রাস্তা না থাকায় তারা ঠিকমতো স্কুল-কলেজে যেতে পারে না।”

আরেক বাসিন্দা খালেক গাজী বলেন, “ছয় বছর ধরে শুধু আশ্বাসই শুনছি। আগে নৌকায় চলাচল করতে হতো, এখন বাঁশের সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পার হতে হচ্ছে। অসুস্থ মানুষকে সময়মতো হাসপাতালে নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে।”

নাকনা গ্রামের বাসিন্দা ডা. নিহার সরকার জানান, প্রতাপনগর ইউনিয়ন পরিষদ, ইউনাইটেড একাডেমি হাই স্কুল, এপিএস ডিগ্রি কলেজ, প্রতাপনগর এবিএস ফাজিল মাদ্রাসা ও আল-আমিন মহিলা মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের প্রধান সড়ক এটি। সড়কটি ভেঙে যাওয়ায় পুরো এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বাঁশের সাঁকো পার হতে গিয়ে অনেকেই নিচে পড়ে আহত হয়েছে। বিশেষ করে বর্ষাকালে সাঁকো পিচ্ছিল হয়ে গেলে শিশু ও বৃদ্ধদের চলাচল আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে।

এলাকাবাসীর দাবি, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিকবার আবেদন করা হলেও এখনো স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। দ্রুত সড়কটি পুনর্নির্মাণ না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন তারা।

প্রতাপনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু দাউদ ঢালী বলেন, “কুড়িকাহুনিয়ার কাঁঠালতলা থেকে মকবুল দোকানদারের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ৭০০ ফুট রাস্তা বিলীন হয়েছে। মানুষের চলাচলের সুবিধার জন্য বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে। তবে স্থায়ী সমাধানের জন্য কার্পেটিং রাস্তার প্রকল্প দেওয়া হয়েছে।”

আশাশুনি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, “ঘূর্ণিঝড়ের সময় রাস্তা ওয়াশ আউট হয়ে গভীর খাদ তৈরি হয়। এলজিইডির বাজেট সংকটের কারণে স্থায়ীভাবে কাজ করা সম্ভব হয়নি। পরে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রায় ৩ লাখ ৯৪ হাজার টাকা ব্যয়ে অস্থায়ী ভাসমান বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়। স্থায়ী সমাধানের জন্য বড় পরিমাণ মাটি ভরাট ও নতুন বরাদ্দ প্রয়োজন।”

দীর্ঘ ছয় বছরের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে দ্রুত সড়কটি পুনর্নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

আরও খবর

Sponsered content