হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ১ মার্চ ২০২৬ , ২:২৬:১৪ প্রিন্ট সংস্করণ
উত্তরের জনপদ ঠাকুরগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত ইফতার মাহফিল পরিণত হয় রাজনৈতিক ও সামাজিক বার্তার এক গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “আমরা একটি ক্রান্তিলগ্নে বাস করছি, যেখানে একটি গোষ্ঠী নারীদের সমাজ থেকে দূরে ঠেলে দিতে চায়।”
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপি ও মির্জা রুহুল আমিন স্মৃতি পরিষদের যৌথ আয়োজনে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, “আমাদের চিন্তা-ভাবনাগুলো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে গেছে। এখন সময় এসেছে সেই ভাবনাগুলোকে একত্রিত করার। সমাজকে এগিয়ে নিতে হলে সবাইকে এক প্ল্যাটফর্মে দাঁড়াতে হবে।” তিনি দেশের বর্তমান বাস্তবতায় সামাজিক সংহতি ও মূল্যবোধ পুনর্গঠনের ওপর জোর দেন।
নারীদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সমাজ গড়তে হলে নারীদের সামনে সমানভাবে এগিয়ে আনার বিকল্প নেই। নারীরা প্রতিটি ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। তাদের পেছনে ঠেলে দিলে জাতি কখনোই এগোতে পারবে না।”
তিনি আরও বলেন, একটি আধুনিক, প্রগতিশীল ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনে নারী-পুরুষের সমান অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করা জরুরি।
বক্তব্যের শেষাংশে তিনি সকলকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আসুন, সবাই মিলে বাংলাদেশকে একটি ভালোবাসার রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলি।” তার এই বক্তব্যে উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়ে।
অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীসহ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন।
বিশ্লেষকদের মতে, নারীর অধিকার ও অংশগ্রহণের বিষয়ে মির্জা ফখরুলের এই বক্তব্য কেবল একটি রাজনৈতিক ভাষণ নয়; বরং চলমান সামাজিক বিতর্কের প্রেক্ষাপটে একটি তাৎপর্যপূর্ণ অবস্থান। জাতীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ ও সামাজিক মূল্যবোধের প্রশ্নে এই বক্তব্য ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মপন্থার ইঙ্গিত বহন করছে।
ইফতারের আধ্যাত্মিক আবহে দেওয়া এই বক্তব্য সামাজিক ন্যায়, সমতা ও ভালোবাসাভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের এক দৃঢ় অঙ্গীকার হিসেবেই প্রতিফলিত হয়েছে।




















