নওগাঁ প্রতিনিধি: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ১১:০২:২৪ প্রিন্ট সংস্করণ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নওগাঁ-১ (নিয়ামতপুর, পোরশা ও সাপাহার) আসন থেকে বিজয়ী বিএনপি প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমানকে মন্ত্রিসভায় দেখতে চান স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই তিন উপজেলায় এ বিষয়ে আলোচনা ও প্রত্যাশা জোরালো হয়েছে।
নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে মোস্তাফিজুর রহমান পেয়েছেন ১ লাখ ৭৩ হাজার ৮৬৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী অধ্যক্ষ মাহবুবুল আলম (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ১ লাখ ৫৩ হাজার ৮১৬ ভোট। ২০ হাজার ৪৮ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন তিনি।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, নওগাঁ-১ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৭৪ হাজার ৬৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৩৫ হাজার ৩৭৭ জন, নারী ২ লাখ ২৮ হাজার ৬৮৪ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৪ জন। ২০টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত বিস্তীর্ণ এ আসনের আয়তন প্রায় ৯৬৫ বর্গকিলোমিটার। সীমান্তবর্তী ও অপেক্ষাকৃত দুর্গম হওয়ায় পোরশা ও সাপাহার উপজেলার উন্নয়ন দীর্ঘদিন ধরেই চ্যালেঞ্জের মুখে।
বিজয়ের পর বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সমাবেশে স্থানীয়রা দাবি তুলেছেন, এ আসনের প্রতিনিধিকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হলে অবহেলিত জনপদের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। বক্তারা বলেন, সীমান্তঘেঁষা এই অঞ্চলে কৃষি, যোগাযোগ ও স্বাস্থ্য খাতে বিশেষ উদ্যোগ প্রয়োজন।
সাপাহার উপজেলার তিলনা ইউনিয়নের কৃষক আবদুল খালেক বলেন, “আমরা ধান ও আম চাষের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে ন্যায্যমূল্য পাই না। এলাকার উন্নয়নে শক্ত অবস্থান দরকার।”
নিয়ামতপুর উপজেলার হাজীনগর ইউনিয়নের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী রহিম উদ্দিন বলেন, “সীমান্ত এলাকায় শিল্প-কারখানা নেই, কর্মসংস্থানও কম। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি।”
নিয়ামতপুর, পোরশা ও সাপাহার উপজেলা ধান ও আম উৎপাদনে সমৃদ্ধ। স্থানীয়দের মতে, এখানকার আম রপ্তানির সম্ভাবনা থাকলেও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে কৃষকরা প্রত্যাশিত সুবিধা পাচ্ছেন না। পাশাপাশি তিন উপজেলায় প্রায় ৭০ হাজার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ বসবাস করেন। তাদের জীবনমান উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন বলে মনে করেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, মন্ত্রিসভায় স্থান পেলে নওগাঁ-১ আসনের অবকাঠামোগত ঘাটতি দূর হবে এবং কৃষি, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ খাতে দৃশ্যমান অগ্রগতি আসবে।




















