বিনোদন

খাবারের বক্সে প্রেমের গল্প

  প্রতিনিধি ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ১২:২০:০৮ প্রিন্ট সংস্করণ

খেয়েছো?’, ‘খেয়েছেন?’ বা ‘খেয়েছিস?’- দেশে এই শব্দগুলো প্রচলিত। খুব সাধারণ মনে হলেও এই শব্দের দ্যোতনায় মিশে রয়েছে ভালোবাসা ও যত্ন। নির্মাতা রাকায়েত রাব্বি মনে করেন, এই শব্দগুলো ভালোবাসা বা যত্নের অন্যতম অনুবাদ। এমন ভাবনা থেকে তিনি নির্মাণ করেছেন ‘টিফিন বক্স’। কাহিনিচিত্রে নির্মাতা খাবারকে অনুষঙ্গ করে দৃশ্যকাব্যে ভালোবাসাকে অনুবাদ করেছেন।

আসছে ফাল্গুন ও ভালোবাসা দিবসকে (১৪ ফেব্রুয়ারি) কেন্দ্র করে জনপ্রিয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকিতে মুক্তি পাচ্ছে ‘টিফিন বক্স’। এটি চরকি ফ্ল্যাশ ফিকশন কনটেন্ট। আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা (১০ ফেব্রুয়ারি) থেকে সীমিত দৈর্ঘ্যের এ কাহিনিচিত্র দেখা যাবে চরকিতে। রাকায়েত রাব্বির গল্প, চিত্রনাট্য, সংলাপ ও পরিচালনায় এতে জুটি বেঁধেছেন রুকাইয়া জাহান চমক ও প্রান্তর দস্তিদার।

‘টিফিন বক্স’ নাম শুনেই ধারণা করা যায় যে, গল্পে খাবারের সংযোগ আছে। নির্মাতা বলেন, ‘খাবার বা টিফিন বক্সের মাধ্যমে প্রেমের গল্প বলাটা খুব নতুন কিছু নয়, কিন্তু বাঙালি সংস্কৃতিতে “খাওয়ানো” বা “খাবার ভাগ করে নেওয়া” হলো ভালোবাসার সবচেয়ে আদিম ও বিশুদ্ধ প্রকাশ, বলতে পারেন এর বিকল্পও নেই। আমি এই গল্পে টিফিন বক্সকে কেবল মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করিনি, বরং এটি গল্পের নাগরিক জীবনকে এক স্বপ্নের জগতে নিয়ে যেতে সাহায্য করে।’

খাবারের ব্যাপার যখন আছে, গল্পের চরিত্রদের রান্না করতেও হতে পারে! অভিনেতা প্রান্তর দস্তিদার জানালেন, তাকে রান্না করিয়েছেন নির্মাতা। অর্থাৎ এই অভিনেতাকে একজন দক্ষ রন্ধনশিল্পী হিসেবে দেখা যাবে। তিনি বলেন, ‘চরিত্রটি রান্না করতে ভালোবাসে, মানুষকে খাওয়াতে ভালোবাসে। অর্থাৎ চরিত্রটি সার্ভ করতে ভালোবাসে। আর ভালোবাসাটাও তো সার্ভ করার মতোই। আমার চরিত্রটি এই ধরনের। বাকিটা কনটেন্টে দেখতে হবে।’

প্রান্তর দস্তিদারকে গল্পে রান্না করতে দেখা গেলেও বাস্তব জীবনে তিনি তেল-নুন-মসলার সমীকরণটা ভালো বুঝেন না বলে নিশ্চিত করেছেন। অভিনেত্রী রুকাইয়া জাহান চমকের ক্ষেত্রে আবার বিপরীত চিত্র। তার অভিনীত চরিত্রটিকে টিফিন বক্স গল্পে রান্না করতে দেখা না গেলেও বাস্তব জীবনে চমক কাজটি করেন এবং পছন্দের মানুষদের রান্না করে খাওয়াতে ভালোবাসেন। গল্পে তার চরিত্রটি উচ্ছ্ল একজন নারীর, যে কিনা স্বাধীনভাবে বাঁচতে ভালোবাসেন। কারও সঙ্গে ভালোবাসার সম্পর্কে জড়াতে চান না।

চমক বলেন, ‘চরিত্রটি অনেক আনন্দে বাঁচতে চায়, কোনো পিছুটান রাখতে চায় না। কিন্তু সেই চরিত্রকেই একসময় বলতে হয় “সৃষ্টিকর্তা এমন কিছু মানুষ সৃষ্টি করেছেন, যাদের প্রেমে না পড়ে থাকা যায় না।” মিতু নামের এই চরিত্রটি সবাই পছন্দ করবেন।’

নির্মাতা জানান, শহরের কোলাহলে তিনি যখন ক্রমশ একা হয়ে পড়ছিলেন, তখন তার মনে হয়েছিল, মানুষের মধ্যে যোগাযোগের শক্তিশালী মাধ্যমগুলো কী কী? সেই অনুসন্ধান তার সামনে আনে খাবারের ধারণা। তার মনে হয় খাবার যেমন সবার জন্য প্রয়োজন, তেমন ভালোবাসাটাও। তাই তিনি খাবার ও ভালোবাসার মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন করে কাহিনি এগিয়েছেন। নির্মাতা মনে করেন, জীবনের শেষমুহূর্ত পর্যন্ত শুধু ভালোবাসাই পারে মানুষের বেঁচে থাকার রসদ জোগাতে।

গল্প নিয়ে নির্মাতা বলেন, ‘মানুষের ভালোবাসা আসলে এক ধরনের বিদ্রোহ। এই নশ্বর পৃথিবীর নিয়ম হলো ফুরিয়ে যাওয়া, কিন্তু ভালোবাসা সেই ফুরিয়ে যাওয়ার বিরুদ্ধে লড়ে। এটি মূলত সময় ও অস্তিত্বের এক লড়াই। জীবনের সব স্বাদ যখন তেতো হয়ে যায়, তখন কেবল ভালোবাসাই পারে তার ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে।’

‘টিফিন বক্স’র গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে আরও অভিনয় করেছেন শারমিন সুলতানা শর্মী ও টুনটুনি সোবহান। চরকি ফ্ল্যাশ ফিকশনটি প্রযোজনা করেছে আলফা-আই এবং ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকি। এটি চরকির অরিজিনাল কনটেন্ট না বলে নিশ্চিত করেছে প্ল্যাটফর্ম কর্তৃপক্ষ। ফ্ল্যাশ ফিকশন মূলত জীবনের কিছু মুহূর্তের নান্দনিক বা সিনেম্যাটিক বর্ণনা। এটাকে স্লাইস অব লাইফও বলা যেতে পারে। এ ধরনের কনটেন্টে জীবনের ছোট ছোট ঘটনা উঠে আসে হয়তো, কিন্তু এর প্রভাব অনেক গভীর। এখন পর্যন্ত ৫টি ফ্ল্যাশ ফিকশন মুক্তি পেয়েছে চরকিতে। সেগুলো হলো ‘খুব কাছেরই কেউ’, ‘অন্ধ বালক’, ‘গ্যাড়াকল’, ‘পারফেক্ট ওয়াইফ’ ও ‘থার্সডে নাইট’।

আরও খবর

Sponsered content