সারাদেশ

গুণী শিক্ষক নির্বাচনে খুলনা বিভাগের সেরা মুসাফির নজরুল

  মহসিন মোল্যা, মাগুরা জেলা প্রতিনিধি ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ৫:১৯:১৯ প্রিন্ট সংস্করণ

আগামী ৫ অক্টোবর ‘জাতীয় শিক্ষক দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত ‘গুণী শিক্ষক নির্বাচন প্রক্রিয়া-২০২৬’-এ কলেজ পর্যায়ে খুলনা বিভাগের ‘গুণী শিক্ষক’ নির্বাচিত হয়েছেন মাগুরার ড. নজরুল ইসলাম (মুসাফির নজরুল)। একই প্রতিযোগিতায় তিনি মাগুরা জেলা ও শ্রীপুর উপজেলা থেকেও নির্বাচিত হয়েছেন।

মুসাফির নজরুল ১৯৯০ সালে এসএসসি, ১৯৯২ সালে এইচএসসি, ১৯৯৫ সালে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতক (সম্মান) এবং ১৯৯৬ সালে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০১০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধীনে ‘বিভাগোত্তর বাংলা কথাসাহিত্যে প্রতিফলিত সামাজিক-অর্থনৈতিক বাস্তবতা’ শীর্ষক অভিসন্দর্ভের জন্য এমফিল এবং ২০২১ সালে ‘মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাসে প্রতিফলিত আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতার স্বরূপ’ শীর্ষক অভিসন্দর্ভের জন্য পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন ও আলোচক হিসেবে অংশ নিয়েছেন।

বাংলা একাডেমির সদস্য মুসাফির নজরুল ২০০১ সালে মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার জি. কে. আইডিয়াল ডিগ্রি কলেজে বাংলা বিভাগের প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি একই প্রতিষ্ঠানে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত।

১৯৯৫ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত শিল্প-সাহিত্যের ছোটকাগজ ‘পিঙ্গল’-এর উপদেষ্টা সম্পাদক, ‘লিহিনা’র সম্পাদক এবং সাপ্তাহিক ‘যায় বেলা যায়’ পত্রিকার সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। নব্বই দশকের মধ্যভাগ থেকে দেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক, সাপ্তাহিক, মাসিক পত্রিকা ও লিটল ম্যাগাজিনে তাঁর দুই শতাধিক অনুবাদ, গবেষণাপ্রবন্ধ, কবিতা ও ফিচার প্রকাশিত হয়েছে।

তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে উপন্যাস ‘শেষ দেখা বেলা’ (১৯৯৮) ও ‘বিশ্বাসের বেসাতি’ (১৯৯৯), কাব্যগ্রন্থ ‘নব্বই দশকের প্রেমের পদাবলী’ (১৯৯৯)। এ ছাড়া ‘সুকান্ত সমগ্র’ (ভূমিকা), ‘অষ্টম শ্রেণির বাংলা সহপাঠ’, ‘কম্পিউটার বাংলা ব্যাকরণ ও রচনা’, ‘ব্যবহারিক মাতৃভাষার ব্যাকরণ ও রচনা’ এবং ‘নিম্ন মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ ও রচনা’সহ বিভিন্ন পাঠ্যপুস্তক সম্পাদনা ও রচনায় যুক্ত ছিলেন।

তাঁর এমফিল গবেষণাগ্রন্থ ‘বিভাগোত্তর বাংলা কথাসাহিত্যে প্রতিফলিত সামাজিক-অর্থনৈতিক বাস্তবতা’ ২০০৯ সালে এবং পিএইচডি গবেষণাগ্রন্থ ‘মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাসে প্রতিফলিত আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতার স্বরূপ’ ২০২১ সালে প্রকাশিত হয়। ২০১৯ সালে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘শ্রেষ্ঠ উপন্যাস’, ‘জননী’, ‘পদ্মানদীর মাঝি’, ‘পুতুলনাচের ইতিকথা’, ‘অহিংসা’ ও ‘হলুদ নদী সবুজ বন’ গ্রন্থের ভূমিকা ও সংকলনের কাজ করেন। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ ‘মুক্তিযুদ্ধে শ্রীপুর’ সম্পাদনা করেন ২০১৭ সালে।

অধ্যাপনার পাশাপাশি মুসাফির নজরুল বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। ১৯৯৪ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত ঢাকাস্থ ‘তরঙ্গ নাট্যগোষ্ঠী’ ও ‘উপমা নাট্য সংসদ’-এর সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৯ সাল থেকে সরকারি নিবন্ধিত সংগঠন ‘মানব উন্নয়ন সংসদ’-এর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া তারাউজিয়াল পল্লী মঙ্গল সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

২০১৩ সাল থেকে তিনি শ্রীপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি। তিনি তারাউজিয়াল উত্তরপাড়া জামে মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা সেক্রেটারি, তারাউজিয়াল আন্না মিয়া হাফেজিয়া লিল্লাহ বোর্ডিং ও এতিমখানা এবং তারাউজিয়াল গোরস্থান পরিচালনা কমিটির সদস্য। ‘শ্রীপুর প্রতিবন্ধী ও অটিজম বিদ্যালয়’ পরিচালনা কমিটির প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্বও পালন করছেন। পাশাপাশি ২০টির বেশি নাটক ও যাত্রাপালার নির্দেশনা ও অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

অনুবাদ সাহিত্যে মাগুরার ‘নবগঙ্গা সাহিত্যগোষ্ঠী সম্মাননা পদক-২০০৮’, সাংবাদিকতায় ঢাকাস্থ ‘আট-ই ফাল্গুণ স্মৃতি সংসদ সম্মাননা পদক-২০০৯’, জেলা প্রশাসক পদক-২০২৪ এবং মাগুরা সাহিত্যিক কল্যাণ পরিষদ সম্মাননা পদক-২০২৪ লাভ করেন তিনি।

এ ছাড়া ২০১৮, ২০১৯, ২০২২, ২০২৪ ও ২০২৬ সালে কলেজ পর্যায়ে যথাক্রমে শ্রীপুর উপজেলা ও মাগুরা জেলার শ্রেষ্ঠ শ্রেণি শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন মুসাফির নজরুল।

আরও খবর

Sponsered content