খেলাধুলা

গ্যাস সংযোগ না থাকায় বন্ধ নোয়াপাড়া চা বাগানের উৎপাদন

  মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি ২৮ অক্টোবর ২০২৫ , ১১:৫৫:৩৬ প্রিন্ট সংস্করণ

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার নোয়াপাড়া চা বাগানে দুই বছর ধরে গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় চা কারখানার উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এর ফলে বাগানের প্রায় দুই হাজার শ্রমিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী জীবিকা সংকটে পড়েছেন।

বাগানটি সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুর্শেদ খানের মালিকানাধীন, যেখানে দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদন বন্ধ থাকায় প্রতিবছরই প্রতিষ্ঠানটি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে।

শ্রমিকরা জানান,“আমরা নিম্ন আয়ের মানুষ, বাগানে কাজ করেই জীবিকা নির্বাহ করি। দুই বছর ধরে গ্যাস সংযোগ না থাকায় আমরা চরম কষ্টে আছি। বকেয়া টাকা পরিশোধ করার পরও সংযোগ দেওয়া হয়নি। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বাধ্য হয়ে আন্দোলনে নামতে হবে।”

তারা আরও বলেন,“গ্যাস না থাকায় চা পাতা শুকানো সম্ভব হচ্ছে না। যদি বাগান চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে আমাদের পরিবারের সদস্যরা মারাত্মক জীবন সংকটে পড়বে।”

নোয়াপাড়া চা বাগান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি কমেট নায়েক বলেন,“গ্যাস সংযোগ দ্রুত না দিলে শ্রমিকরা বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। কারখানার যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার পথে। বারবার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি।”

বাগান ইউনিয়নের সেক্রেটারি মনি বাউড়ি বলেন,“গ্যাস সংযোগ না থাকায় শুধু শ্রমিকরা নয়, পুরো চা শিল্পই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এটি স্থানীয় অর্থনীতির জন্যও উদ্বেগজনক। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে উৎপাদন ব্যাহত ও শ্রমিকদের পরিবার ধ্বংসের মুখে পড়বে।”

সাবেক ইউপি সদস্য শ্যামল বুনার্জি জানান,“চা শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ দিন দিন বাড়ছে। যদি দ্রুত গ্যাস সংযোগ পুনঃস্থাপন না করা হয়, শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে আসতে বাধ্য হবে। এই সমস্যা সমাধান ছাড়া চা শিল্প ও শ্রমিকদের জীবনমান রক্ষা করা সম্ভব নয়।”

তিনি আরও বলেন,“দীর্ঘদিন কারখানা বন্ধ থাকায় যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে এবং চা উৎপাদনের চক্রও বিঘ্নিত হচ্ছে। এতে পুরো এলাকার অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”

জালালাবাদ গ্যাস অ্যান্ড টিডি সিস্টেম লিমিটেড হবিগঞ্জ শাহজিবাজার অফিসের ম্যানেজার হুসাইন মো. জুনায়েদ বলেন,“নোয়াপাড়া চা বাগানের সব বকেয়া পরিশোধ করা হয়েছে। আমরা ঢাকার অনুমোদনের অপেক্ষায় আছি। অনুমোদন পেলেই সংযোগ দেওয়া হবে।”

আরও খবর

Sponsered content