মোঃ মিজানুর রহমান মিন্টু, স্টাফ রিপোর্টার ৩০ নভেম্বর ২০২৫ , ৮:০২:১৪ প্রিন্ট সংস্করণ
দশম গ্রেড বাস্তবায়নের দাবিতে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় কর্মবিরতি পালনে অংশ নিয়েছেন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্টরা। রবিবার (৩০ নভেম্বর) সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে দুই ঘণ্টার এই কর্মবিরতি পালন করা হয়।
কর্মবিরতির ফলে হাসপাতালে আসা অসংখ্য রোগী ভোগান্তিতে পড়েন। ডাক্তার দেখাতে পারলেও মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের কর্মবিরতির কারণে রোগীরা ল্যাব–পরীক্ষা ও ওষুধ সংগ্রহে বাধার মুখে পড়েন। দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থেকেও অনেকে পরীক্ষানিরীক্ষা ও প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ওষুধ নিতে পারেননি।
একাধিক রোগী ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, “স্বাস্থ্যসেবায় এমন অচলাবস্থা অত্যন্ত কষ্টদায়ক। সরকারের উচিত দ্রুত তাঁদের দাবি বিবেচনা করে এ সংকটের সমাধান করা।”
তেঁতুলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ফার্মাসিস্ট আতিয়ার রহমান ও জালাল উদ্দিন বলেন, “স্বাস্থ্যসেবা একটি টিমওয়ার্ক। ওষুধ প্রস্তুত, সংরক্ষণ, বিতরণসহ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ফার্মাসিস্টরা কাজ করেন। অথচ ৩১ বছর ধরে আমরা বঞ্চিত। গত কয়েক বছরেও কোনো সংস্কার হয়নি। দ্রুত আমাদের দাবি বাস্তবায়ন না হলে কর্মসূচি আরও বিস্তৃত হবে।”
বিএসসি ইন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট সোহাগ রানা বলেন, “করোনা, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়ার মতো মহামারিতেও আমরা সরাসরি মাঠে কাজ করেছি। অথচ আজও বৈষম্যের শিকার হচ্ছি। আমাদের পেশার মর্যাদা ও ন্যায্য গ্রেড পাওয়াটা সময়ের দাবি।”
ডিপ্লোমাধারী টেকনোলজিস্টরা জানান, অন্যান্য খাতে ডিপ্লোমা প্রকৌশলী, নার্স ও কৃষিবিদদের আগেই ১১তম গ্রেড থেকে ১০ম গ্রেডে উন্নীত করা হয়েছে। কিন্তু তাঁদের ক্ষেত্রে এখনও সেই পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তাই তাঁরা দ্রুত সরকারকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করার আহ্বান জানান।
তেঁতুলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সৈয়দ মাহমুদুর রহমান এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করলেও দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, “উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত আমরা কর্মবিরতি সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক কিছু বলতে পারছি না।”
কর্মবিরতির কারণে স্থানীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা কিছুটা ব্যাহত হলেও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের আন্দোলন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।




















