রাজনীতি

দেশে আর পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতি চলবে না: জামায়াত আমির

  প্রতিনিধি ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ৬:০৭:৩০ প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘এই দেশে (বাংলাদেশ) রাজার ছেলে রাজা হবে, বংশানুক্রমিক পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতি আর চলবে না। রাজনীতি হবে মেধা এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে, রাজনীতি হবে দেশপ্রেমের প্রমাণের মাধ্যমে। এখন থেকে পাহারা বসাবেন। কোনো ভোট ডাকাত, ভোট চোর, ভোট ইঞ্জিনিয়ার কাউকে এবার কোনো ছাড় নেই। সিনা মজবুত করে, হাত শক্ত করে আমাদেরকে দাঁড়িয়ে যেতে হবে।’

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে জামায়াতের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াতের আমির।

তিনি বলেন, ‘দেশবাসী দীর্ঘ দিন ধরে একটি নতুন বাংলাদেশের অপেক্ষায় আছে এবং সেই বাংলাদেশ গড়তে হলে পুরোনো রাজনীতিকে লাল কার্ড দেখাতে হবে। চোখ মেলে দেখেন জনগণ আপনাদেরকে কিভাবে দেখে। আজকে যুবকদের উত্থান শুরু হয়েছে পরিবর্তনের পক্ষে নতুন বাংলাদেশের পক্ষে মা-বোনদের উত্থান শুরু হয়েছে পরিবর্তন এবং নতুন বাংলাদেশের পক্ষে এই দৃশ্য দেখে অনেকে নার্ভাস। নার্ভাস হয়ে আপনাদের এখানে তো বোধয় মাঘ মাসে যে অনেকের মাথা গরম হয়ে গেছে এরা চৈত্র মাসে কী করবে। ঠাণ্ডা রাখেন মাথা ঠাণ্ডা রাখেন, মাথা গরম করবেন না, রাজনীতি করতে হলে ঠাণ্ডা মাথায় আসেন। আপনি রেগে গেলেন তো হেরে গেলে। হেরে যাওয়ার পূর্বাভাস শুরু হয়ে গেছে অলরেডি পাঁচটা বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণরা জানিয়ে দিয়েছে লাল কার্ড। আগামী ১২ তারিখে হবে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লাল কার্ড।’

জামায়াতের আমির আরও বলেন, ‘আগামী ১২ তারিখ দুইটা ভোট। একটা হচ্ছে গণভোট। গণভোটে হ্যাঁ মানেই হচ্ছে নতুন বাংলাদেশ পুরোনো রাজনীতিকে লাল কার্ড। যেই রাজনীতি মানুষ খুন করে, যেই রাজনীতি আয়নাঘর তৈরি করে, যে রাজনীতি দেশপ্রেমিক নেতাদেরকে খুন করে, যেই রাজনীতি আমার দেশের সমস্ত সম্পদ লুন্ঠন করে, যেই রাজনীতি রাজনীতিবিদদের জন্য ব্যবসার উপাদানে পরিণত হয়, ১২ তারিখ সেই রাজনীতিকে ইনশাআল্লাহ লাল কার্ড। এজন্য আমরা সবাই গণভোটে হ্যাঁ বলব। ইনশাআল্লাহ হ্যাঁ চিহ্নতে আমরা সিল বসাব।’

তিনি বলেন, ‘ভোটে যাদের অতীতেও খাসলত খারাপ ছিল। এখনো যারা লোভ সামলাতে পারেনি। সেই বিড়ালের হাতে কি গোস্ত পাহারা দেওয়ার দায়িত্ব দেবেন? এরা রাষ্ট্রের জনগণের মান যার এবং ইজ্জতের নিরাপত্তা এরা দেবে? এখনই দিচ্ছে না, আফসোস তারাও মজলুম ছিলেন। কেন যে এখন বদলে গেলেন বুঝতে পারলাম না।’

রাজশাহীর উন্নয়ন বিষয়ে তিনি বলেন, ‘রাজশাহীর কিছু সমস্যা আছে। সব জায়গায় সমস্যা আছে। যেহেতু ইনসাফ কায়েম নাই, যেহেতু দেশকে নিয়ে রাজনৈতিক নেতাদের কমিটমেন্ট নাই, ভিশন নাই। এখানে একটা মেডিকেল কলেজ আছে, বহু পুরোনো। যখন আটটা মেডিকেল কলেজ ছিল পূর্ব পাকিস্তানে, তখন এখানে একটা ছিল। সেই মেডিকেল কলেজ এখনো আছে, তার সাথে একটা ডেন্টাল ইউনিট করা হয়েছে কিন্তু ডেন্টাল কলেজ এখানে স্থাপন করা দরকার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটা ঘুমিয়ে পড়েছে। আমরা ইনশাল্লাহ আর কয়টা দিন তো সবর করেন। যদি আল্লাহ তায়ালা আপনাদের পছন্দের লোকদেরকেই দেশ সেবার সুযোগ দেন, আল্লাহর মেহেরবানি দাবি করতে হবে না, আমরাই খুঁজে খুঁজে বের করব জাতিকে সেবা দেওয়ার জন্য কোথায় কী দরকার এবং আপনাদের ঘুমন্ত ডেন্টাল কলেজকে ইনশআল্লাহ টান দিয়ে আমরা জাগিয়ে তুলে দেব।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের ব্লু ইকোনমিতে সমুদ্রে এখনো আমরা সম্পদ আহরণে ঢুকতে পারিনি। আল্লাহ যদি আমাদেরকে তৌফিক দেন, কারো চোখ রাঙ্গানির পরোয়া করবো না ইনশাআল্লাহ। দেশের সম্পদ দেশের মানুষের জন্য তুলে আনার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করব।’

জনসভায় সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী মহানগর জামায়াতের আমির মাওলানা কেরামত আলী। মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি ইমাজ উদ্দিন মন্ডলের সঞ্চালনায় জনসভায় উপস্থিত ছিলেন দলটির নায়েবে আমির ও রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনের প্রার্থী অধ্যাপক মজিবুর রহমান, রাজশাহী-২ (সদর) আসনের প্রার্থী ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ, রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনের প্রার্থী ডা. আব্দুল বারী, রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দূর্গাপুর) আসনের প্রার্থী মাওলানা মনজুর রহমান, রাজশাহী-৬ (চারঘাট-বাঘা) আসনের প্রার্থী অধ্যক্ষ নাজমুল হক, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ডা. মাহমুদা আলম মিতু, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) জিএস এসএম ফরহাদ হোসেন প্রমুখ।

আরও খবর

Sponsered content