প্রচ্ছদ

নওগাঁ-৪ (মান্দা): ২০২৬ সালের নির্বাচনে জমে উঠতে পারে তিনমুখী লড়াই

  প্রতিনিধি ৩ আগস্ট ২০২৫ , ৪:৪৮:০৫ প্রিন্ট সংস্করণ

নওগাঁ প্রতিনিধি
একক উপজেলা নিয়ে গঠিত জাতীয় সংসদের ৪৯ নম্বর আসন নওগাঁ-৪ (মান্দা)। আসন্ন   জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এ আসনে ভোটের সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বিগত নির্বাচনের ধারাবাহিকতা থেকে বিচ্যুতি ঘটিয়ে ২০২৬ সালের নির্বাচন হতে পারে একেবারে নতুন ঘরানার।

🟨 আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি বদলে দিচ্ছে ভোটের হিসাব

১৯৯১ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত পাঁচটি জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগপন্থী ভোটের হার ছিল তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল—প্রায় ৪০ শতাংশ। কিন্তু বর্তমানে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ থাকায় এই বিশাল ভোট ব্যাংক ভোটকেন্দ্রমুখী হবে কি না, তা নিয়ে রয়েছে জটিলতা।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি আওয়ামীপন্থী ভোটাররা ভোট থেকে বিরত থাকে, তবে বিএনপি কিংবা জামায়াতের যেকোনো শক্তিশালী প্রার্থী জয়ের পথে এগিয়ে থাকতে পারেন। তবে ওই ভোটারদের একটি অংশ যদি নির্দিষ্ট কোনো প্রার্থীর দিকে ঝুঁকে পড়ে, তখন সে প্রার্থী বিরাট সুবিধা পাবে।

🟨 নেতৃত্ব ও জনপ্রিয়তায় ভিন্নতাই নির্ধারণ করতে পারে বিজয়ী

বিএনপি’র ডা. ইকরামুল বারী টিপু একাধিকবার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় স্থানীয়ভাবে সুপরিচিত। চিকিৎসক হিসেবে জনগণের সঙ্গে তার সংযোগ রয়েছে। অন্যদিকে জামায়াতের খন্দকার আব্দুর রাকিব পরিচ্ছন্ন ইমেজের হলেও রাজনৈতিক প্রভাব এখনও তুলনামূলক দুর্বল।

দুই প্রার্থীর বাইরে আরও একজন প্রভাবশালী মনোনয়ন প্রত্যাশী হলেন আব্দুল মতিন, যিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা। তার কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে সংযোগ থাকায় দলের মনোনয়নের প্রশ্নে তিনি এগিয়ে থাকলেও তৃণমূলে জনপ্রিয়তা কিছুটা অনিশ্চিত।

🟨 বিএনপি ও জামায়াতের ভেতরকার সমীকরণেই নির্ধারিত হতে পারে ফল

বিএনপি ও জামায়াতের দ্বন্দ্বপূর্ণ সহাবস্থানে দেখা যাচ্ছে—বিএনপি যদি জনপ্রিয়তা হারায় কিংবা বিভক্তি বাড়ে, তবে জামায়াত দ্রুত জায়গা নিতে সক্ষম হচ্ছে। বিশেষ করে স্থানীয় ধর্মীয় প্রচারণা, ওয়াজ মাহফিল, ও মসজিদভিত্তিক দাওয়াতি কার্যক্রমের মাধ্যমে জামায়াত ধীরে ধীরে একটি ভোট ব্যাংক গড়ে তুলছে।

🟨 ১৯৯১ থেকে ২০০৮: ভোটের উত্থান-পতন বলছে কী?

নির্বাচন জয়ী প্রার্থী দল প্রাপ্ত ভোট (প্রায়)
১৯৯১ নাসির উদ্দিন জিহাদি জামায়াত ৫০%
১৯৯৬ সামসুল আলম প্রামাণিক বিএনপি ৪৮%
২০০১ সামসুল আলম প্রামাণিক বিএনপি-জামায়াত ৫৫%
২০০৮ ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিক আওয়ামী লীগ (স্বতন্ত্র) ৫৩%

উপজেলা নির্বাচনের ফলাফলগুলো– যেমন ২০০৯ সালে ডা. টিপুর বিজয় এবং ২০১৪ সালে জামায়াতের অধ্যাপক আব্দুর রশিদের বিজয়—সংসদ নির্বাচনের ভোট প্রবণতা অনুমান করতে সাহায্য করছে।

🟨 ২০২৬ নির্বাচন হবে পরীক্ষামূলক রাজনীতির এক মাইলফলক

যদিও বর্তমান প্রেক্ষাপটে জামায়াতের সাংগঠনিক ভিত্তি ও বিএনপির নেতৃত্ব-সংকট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, তারপরও প্রার্থী নির্বাচনে জনগণের পছন্দ ও তৃণমূল সংযোগই শেষ পর্যন্ত জয়-পরাজয়ের ব্যবধান নির্ধারণ করবে।

সামগ্রিকভাবে, মান্দা আসনে ২০২৬ সালের নির্বাচন হবে তিনমুখী লড়াইয়ের এক উত্তেজনাপূর্ণ অধ্যায়। দলীয় পরিচয়ের বাইরে প্রার্থীর ব্যক্তিত্ব, গ্রহণযোগ্যতা ও তৃণমূল সংযোগই এখানে বিজয় নিশ্চিত করতে পারে।

আরও খবর

Sponsered content