সারাদেশ

নৌকা বিহীন গোপালগঞ্জ-১: চতুর্মুখী লড়াইয়ের আভাস, ভোটের মাঠে নতুন সমীকরণ

  শেখ শোভন আহমেদ ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ , ১০:২৫:২৪ প্রিন্ট সংস্করণ

দলীয় মনোনয়ন ও নির্বাচন কমিশনের যাচাই–বাছাই শেষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদীয় আসন ২১৫, গোপালগঞ্জ-১ (কাশিয়ানী–মুকসুদপুর) থেকে দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে যাঁরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, তাঁদের তালিকা চূড়ান্ত হয়েছে।

দলীয় প্রার্থীরা হলেন— বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে ধানের শীষ প্রতীকে মোঃ সেলিমুজজামান মোল্যা, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে দাঁড়ি পাল্লা প্রতীকে হামিদ মোল্লা, জাতীয় পার্টি থেকে লাঙ্গল প্রতীকে সুলতান জামান খান, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি থেকে কাস্তে প্রতীকে নীরদ বরন মজুমদার, গণ অধিকার পরিষদ থেকে ট্রাক প্রতীকে মোঃ কাবির মিয়া, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে হাতপাখা প্রতীকে মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।

স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন— কলস প্রতীকে কাইউম আলী খান, ঘোড়া প্রতীকে এম আনিসুল ইসলাম এবং ফুটবল প্রতীকে আশরাফুল আলম শিমুল।

গোপালগঞ্জ-১ আসনটিতে কৃষক, শ্রমিক, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ নানা শ্রেণি–পেশার মানুষের বসবাস। শিল্পকারখানায় সমৃদ্ধ না হলেও এ আসনে রয়েছে ভৌগোলিক বৈচিত্র্য। পশ্চিম ও উত্তর প্রান্তে নড়াইল ও ফরিদপুর জেলা সংলগ্ন হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা তুলনামূলক উন্নত। সব মিলিয়ে ভোটারদের রাজনৈতিক সচেতনতা ও চিন্তাভাবনাও বেশ পরিপক্ব বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে বরাবরই আওয়ামী লীগ প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। তবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ না নেওয়ায় ‘আওয়ামী লীগের দুর্গ’ হিসেবে পরিচিত গোপালগঞ্জ-১ আসনে ব্যতিক্রমী চিত্র দেখা যাচ্ছে। দলের মধ্যম সারির অনেক নেতা মামলার মুখে আত্মগোপনে রয়েছেন। মাঠপর্যায়ের নেতারা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। সাধারণ ভোটাররাও আওয়ামী লীগের বিকল্প প্রার্থী খুঁজছেন।

মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এক ভিন্ন চিত্র। কট্টর আওয়ামী ভোটারদের একটি বড় অংশ নৌকা প্রতীক ছাড়া ভোটকেন্দ্রে যেতে অনিচ্ছুক। আবার অনেকে বিকল্প প্রার্থী হিসেবে স্বতন্ত্র প্রার্থী আশরাফুল আলম শিমুলকে পছন্দ করছেন। অন্যদিকে ‘হেভিওয়েট’ প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরাজিত গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী মোঃ কাবির মিয়া।

আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ সেলিমুজজামান মোল্যা। ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে আসা এই নেতা ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হামিদ মোল্লা দাঁড়ি পাল্লা প্রতীকে নীরব রিজার্ভ ভোট পেতে পারেন বলেও ধারণা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

বিশিষ্টজনদের ধারণা, নৌকা বিহীন নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি কিছুটা কম হতে পারে। তবে গোপালগঞ্জের আসনগুলোতে, বিশেষ করে গোপালগঞ্জ-১ আসনে চতুর্মুখী লড়াইয়ের আভাস স্পষ্ট। গুঞ্জন রয়েছে, শেষ মুহূর্তে স্বতন্ত্র প্রার্থী আশরাফুল আলম শিমুল ও গণ অধিকার পরিষদের কাবির মিয়া এক ব্যানারে নির্বাচন করতে পারেন। এমনটি হলে ধানের শীষ প্রতীকের জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

আরও খবর

Sponsered content