জাতীয়

পুতুলের মতো শিশু খালেদা জিয়া: শৈশবের উজ্জ্বল মুহূর্ত

  প্রতিনিধি ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ , ১০:৫৫:২৬ প্রিন্ট সংস্করণ

সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহর জীবনীগ্রন্থ ‘বেগম খালেদা জিয়া: জীবন ও সংগ্রাম’ অনুযায়ী, খালেদা জিয়া ছিলেন অপার সুন্দর ও মাধুর্যময় শিশু। জন্মের পর পরিবারের ডাক্তার অবনী গোস্বামী পরামর্শ দিয়েছিলেন তার নাম রাখা হোক “শান্তি”, যেন যুদ্ধের ধ্বংসের মাঝে তার জন্ম মানুষকে শান্তির বার্তা দিক। কিন্তু পরিবার এবং তার বড় বোন সালিমা আক্তার বিউটির পছন্দে তাকে ডাকত ‘পুতুল’—কারণ সে সত্যিই পুতুলের মতো কমনীয় ও সুন্দর ছিল।

শৈশবে খালেদা জিয়া প্রাণবন্ত, উচ্ছল এবং নিজের জগতে মগ্ন ছিলেন। মাত্র ৫ বছর বয়সে ভর্তি হন সেন্ট জোসেফ কনভেন্ট স্কুলে, গ্রেড ফোর পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। পরে ১৯৬০ সালে দিনাজপুর সরকারি স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করে সুরেন্দ্রনাথ কলেজে ভর্তি হন এবং ১৯৬৩ সালে ইন্টারমিডিয়েট শেষ করেন। পড়াশোনা, খেলাধুলা এবং নাচ—সব জায়গায়ই তার উজ্জ্বল উপস্থিতি ছিল।

খালেদা জিয়ার চুল অনেক লম্বা ছিল। গোসলের পর চুল শুকানো কঠিন হয়ে যেত, কারণ তখন হেয়ার ড্রায়ার ছিল না। বাইরে যেতে হলে মা তার চুল বেঁধে দিতেন। সে ফুল ভালোবাসতেন এবং তার বোনদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখতেন। বিউটির সঙ্গে ছিল বিশেষ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক; একই বিছানায় ঘুমাতেন। তিন বোনের মধ্যে খালেদা জিয়াই ছিলেন সেরা রাঁধুনি।

সাংবাদিক সৈয়দ আবদাল আহমেদের ‘নন্দিত নেত্রী খালেদা জিয়া’ বই অনুযায়ী, খালেদা জিয়া পরিবারে সবার আদরের পুতুল ছিলেন। তাকে কেউ ধমক দিতে পারত না, আদর করতে হতো। রোজার দিনও ছোট বয়সে ‘রোজা রাখব’ বলে নিজেকে অনড় রাখতেন। নামাজও তার সঙ্গে পড়তেন, এবং বাবা-মায়ের মুখে মুখে কালেমা শিখেছেন। শবে বরাতের দিন ফকির-মিশকিনদের হালুয়া ও রুটি বিলিয়ে দিতেন, ঈদের দিনে নতুন কাপড় পরে আনন্দ উপভোগ করতেন।

খালেদা জিয়ার শৈশবই তার জীবনের প্রথম অনুপ্রেরণার অধ্যায়—যেখানে পরিবার, ধর্ম ও মানবিকতা ছিল তার চরিত্রের মূল ভিত্তি।

আরও খবর

Sponsered content