সারাদেশ

বললেন ‘কৃষক কার্ড’ পাওয়া কবীর আমার বিরুদ্ধে গুজব ছড়ানো হচ্ছে, বিচার চাই

  প্রতিনিধি ১৬ এপ্রিল ২০২৬ , ৩:৫৮:০৭ প্রিন্ট সংস্করণ

টাঙ্গাইলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে কৃষক কার্ড পাওয়া কবীর হোসেন প্রকৃত কৃষক নন বলে প্রচার পায়। তার কিছু ছবি প্রচার করে তাকে বিত্তশালী এবং কৃষক নন বলে দাবি করা হয়। একইসঙ্গে তার কিছু এআই নির্মিত ছবিও ছড়িয়ে পড়ে। এতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার তৈরি হয়।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে টাঙ্গাইল শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে প্রধান অতিথি হিসেবে কৃষক কার্ড বিতরণ ও প্রি-পাইলটিং কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এসময় প্রধানমন্ত্রী কবির হোসেনসহ আরও ১৫ জন কৃষককে নিজ হাতে কার্ড দেন। তার কাছ থেকে কৃষক কার্ড গ্রহণ করেন কবীর হোসেন।

কবীর হোসেনরবাড়ি সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের উত্তর তারটিয়া এলাকায়। প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে তার কার্ড নেওয়ার ছবিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে দাবি করেন তিনি কৃষক নন এবং তিনি ধনী ব্যক্তি।

এ ছাড়া বুধবার (১৫ এপ্রিল) বিকেলে ও সন্ধ্যায় কবিরের বাড়িতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পরিদর্শন করেন।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, কবীর হোসেন তার বাড়ির উঠানে ঘরের সামনে ডাটা ও পাট শাকের চাষ করেছেন। গোয়াল ঘরে বাঁধা তিনটি গরু।

স্থানীয়রা জানান, ওই গ্রামের মৃত আবু সাইদ মিয়ার ছেলে কবীর হোসেনের নিজস্ব জমি রয়েছে প্রায় ১৩ শতাংশ। পাশাপাশি তিনি দীর্ঘদিন ধরে অন্যের জমি বর্গা নিয়ে কৃষিকাজ করে আসছেন। তিনি এলাকায় একজন ক্ষুদ্র কৃষক হিসেবেই পরিচিত। একটি টিনের ঘরে থাকেন তিনি। বাড়ির সামনেই সবজি আবাদ করেছেন।

অনুষ্ঠানে কৃষক হিসেবে কবীর হোসেন বক্তব্য দেন। এরপরই তিনি প্রকৃত কৃষক নয় বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ কয়েকটি ছবি ছড়িয়ে পড়ে। এ ছাড়া ২০২৫ সালে তিনি এআই দিয়ে তৈরি করা কিছু ছবি নিজের টাইমলাইনে পোস্ট করেন। সেই ছবিগুলোও হঠাৎ ছড়িয়ে পড়ে। আর সেসব ছবি পোস্ট করেই তার বিরুদ্ধে সমালোচনা শুরু হয়।

গোয়াল ঘরে বাঁধা তিনটি গরু় ও বর্গা নিয়ে চাষ করা জমির পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন কৃষক কবীর হোসেন। ছবি: কোলাজ

স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, কবীর কৃষিকাজ করলেও তিনি নিয়মিত কন্টেন্ট তৈরি করেন।

জানা গেছে, কৃষক কার্ড দেওয়ার আগে কয়েক দফা বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা থেকে তদন্ত করা হয়েছে। কবীর হোসেন প্রকৃত কৃষক বলেই তালিকায় তার নাম রাখা হয়।

স্থানীয় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘কবির হোসেন প্রকৃত কৃষক। বর্তমান সময়ে তথ্য যাচাই-বাছাই না করে গুজবে কান দিয়ে সরকারের মানহানি করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে তথ্য প্রচারের ক্ষেত্রে আরও সচেতন হওয়া উচিত।’

স্থানীয় কয়েকজন কৃষক বলেন, ‘কবীর যেহেতু বর্গাচাষ করেন এবং তার নিজস্ব জমিও রয়েছে, তাই তিনি কৃষক কার্ড পাওয়ার যোগ্য। কৃষি কাজই কবীরের মূল পেশা। তাকে নিয়ে অযথা বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে।’

রমজান আলী বলেন, ‘অনেকদিন ধরেই কবীর কৃষি কাজ করছেন। তার বাবা-দাদা সবাই কৃষক। একজন কৃষকের কী ভালো মানের পোশাক পরার অধিকার নেই। প্রধানমন্ত্রীকে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য এমন মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হয়েছে। কৃষক কার্ডের আবেদনের জন্য আমাদের এলাকায় মসজিদে মাইকিং করা হয়েছে।’

কৃষক কবীর হোসেন বলেন, ‘আমি একজন কৃষক। বাবার দেওয়া আমার ১৩ শতাংশ জমি রয়েছে। এছাড়া আমি অন্যের জমিতে বর্গা চাষ করি। কৃষিকাজের পাশাপাশি কন্টেন্ট বানিয়ে কিছু অতিরিক্ত আয় করি। আমার নিজের কিছু ছবি এআই দিয়ে বানিয়ে ফেসবুকে দেয়েছিলাম। বর্তমানে তা নিয়ে অনেকেই অপ্রচার করছে। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও গুজব ছড়ানো হচ্ছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’

এ ব্যাপারে ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদের ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সৈয়দ কবিরুজ্জামান বলেন, ‘কবীর হোসেন প্রকৃত কৃষক। তিনি দীর্ঘদিন করে অন্যের জমিতে বর্গা চাষ করেন। এ ছাড়া তিনি গরু লালন পালন ও সবজি আবাদ করেন। কবীরের নামে ছড়ানো তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আশেক পারভেজ বলেন, ‘নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করেই কৃষক কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আব্দুর রহিম বলেন, ‘আমরা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি, কবীর প্রকৃতপক্ষে একজন কৃষক। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সঠিক নয়।’

আরও খবর

Sponsered content