সারাদেশ

সাতক্ষীরায় জ্বালানি সংকট: তেলের লাইনে দাঁড়িয়ে সংবাদকর্মীরা, ব্যাহত সংবাদ সংগ্রহ

  সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: ৪ এপ্রিল ২০২৬ , ২:৩৫:৩৬ প্রিন্ট সংস্করণ


মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাবে দেশে তৈরি হওয়া জ্বালানি সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে সাতক্ষীরার জনজীবনে। এর সবচেয়ে বড় ভোগান্তিতে পড়েছেন মাঠপর্যায়ের সংবাদকর্মীরা। তেলের জন্য ফিলিং স্টেশনগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন ও তথ্য সংগ্রহের কাজ।

শনিবার জেলার বিভিন্ন পাম্প ঘুরে দেখা যায়, মাইলের পর মাইল মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি। সেই লাইনে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদেরও।

তেলের জন্য অপেক্ষমাণ এক সংবাদকর্মী মাসুদ রানা বলেন, “সকাল সাড়ে সাতটা থেকে লাইনে আছি। বাইকে তেল না থাকায় প্রায় দুই কিলোমিটার ঠেলে পাম্পে এনেছি। এখন বিকেল ছয়টা—১০ ঘণ্টা অপেক্ষার পর মাত্র ২০০ টাকার পেট্রোল পেয়েছি। এই তেল দিয়ে কয়টি সংবাদ সংগ্রহ করব?”

তিনি জানান, সময়মতো ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে না পারায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ কাভার করা সম্ভব হচ্ছে না। একই সমস্যায় পড়েছেন জেলার শত শত সাংবাদিক।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গণমাধ্যম রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে সাংবাদিকদের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে বিঘ্ন ঘটছে। দ্রুত তথ্যপ্রবাহের এই যুগে দিনের বড় একটি সময় জ্বালানি সংগ্রহে ব্যয় হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে।

সচেতন মহলের মতে, সাংবাদিকদের এই যাতায়াত সংকট নিরসন না হলে গুজব ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়বে। কারণ মাঠপর্যায়ের বাস্তব তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছানোর পথ ক্রমেই সংকুচিত হয়ে পড়ছে।

এ অবস্থায় স্থানীয় সাংবাদিক নেতারা অ্যাম্বুলেন্স ও ফায়ার সার্ভিসের মতো সংবাদকর্মীদেরও জরুরি সেবার আওতায় এনে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি, পেশাগত পরিচয়পত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ ব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছেন তারা।

পাম্প কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সরবরাহ সীমিত থাকায় তারা রেশনিং পদ্ধতিতে তেল বিক্রি করছেন। তবে সাংবাদিকদের জন্য আলাদা কোনো নির্দেশনা এখনো প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়নি।

আরও খবর

Sponsered content