নেত্রকোনা প্রতিনিধি ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ৯:০৩:৩৩ প্রিন্ট সংস্করণ
নেত্রকোনা জেলার বারহাট্টা উপজেলায় বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক-এর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ৫০ লাখ টাকা ঋণ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তিন লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে মামলাটিকে ঘিরে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো—বাদীর নিজেই যাদের সাক্ষী করেছেন, তাদের একাধিকজন এ ঘটনার বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে দাবি করেছেন।
মামলার বাদী বারহাট্টা উপজেলার সাহতা ইউনিয়নের ডেমুরা গ্রামের মৃত আ. রশিদের ছেলে কামাল তালুকদার (৬০)। তিনি ‘আলপনা মৎস্য ও গরু মোটাতাজাকরণ মিশ্র খামার’-এর উদ্যোক্তা। আদালতে দাখিল করা অভিযোগপত্রে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, বারহাট্টা শাখা-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মো. জালাল উদ্দিনকে ১ নম্বর এবং শাখার মুখ্য কর্মকর্তা আল বারী উল মোসাব্বেরকে ২ নম্বর আসামি করা হয়েছে।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, খামারের ঋণ ৫০ লাখ টাকায় উন্নীত করতে আসামিরা তিন লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। পরে গরু বিক্রি করে ওই টাকা পরিশোধ করা হলেও ঋণ মঞ্জুর করা হয়নি এবং টাকা ফেরতও দেওয়া হয়নি।
তবে মামলায় সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে এক নম্বর সাক্ষী মো. বাবুল মিয়া ও দুই নম্বর সাক্ষী শফিকুল ইসলাম দাবি করেছেন, তারা এ ঘটনার বিষয়ে কিছুই জানেন না এবং তাদের সামনে বাদী ও আসামিদের মধ্যে কোনো লেনদেন হয়নি। সাক্ষী হওয়ার বিষয়টিও মামলার আগে তাদের জানানো হয়নি বলে তারা জানান।
অভিযোগ প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ব্যাংক কর্মকর্তারা মামলাটিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও সাজানো বলে দাবি করেন। তারা জানান, সরেজমিনে দেখানো ব্যাংক স্টেটমেন্ট, খেলাপি ঋণ পরিশোধের একাধিক চিঠি এবং উকিল নোটিশ অনুযায়ী মামলা দায়েরের অনেক আগেই বিভিন্ন তারিখে বাদীকে ঋণ পরিশোধের জন্য নোটিশ পাঠানো হয়েছিল।
ব্যাংক কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে কামাল তালুকদারের ‘আলপনা মৎস্য খামার’ প্রকল্পের বিপরীতে সাত লাখ টাকার একটি ঋণ ছিল, যার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। সেই ঋণ পরিশোধ না করে তিনি নতুন করে ৫০ লাখ টাকার ঋণের আবেদন করেন। তবে তার বন্ধকী সম্পত্তির সর্বোচ্চ ঋণসীমা (এমসিএল) নির্ধারিত হয় মাত্র ১২ লাখ টাকা। অতীত ঋণ পরিশোধের ট্র্যাক রেকর্ড ভালো না থাকা এবং প্রকল্পটির ফিজিবিলিটি (গ্রহণযোগ্যতা) না থাকায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ (জিএম অফিস) ঋণসীমা নবায়ন ও বর্ধিতকরণে বাধার বিষয়টি অবগত করা হয় বলেও তারা জানান।
ব্যাংক কর্মকর্তাদের অভিযোগ, নিয়মবহির্ভূতভাবে বড় অংকের ঋণ না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে এবং ব্যাংককে চাপ দিতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বাদী এ ধরনের কাল্পনিক ঘুষের অভিযোগ এনে হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করেছেন।
এ বিষয়ে মামলার বাদী কামাল তালুকদারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। সাক্ষীদের অজ্ঞতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যারা সাক্ষী, তারা জানে কি জানে না—তা সাক্ষ্য দেওয়ার বিষয়। সাক্ষ্যের সময় আমি সাক্ষী হাজির করব।” এরপর তিনি সরাসরি দেখা করার কথা বলে ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।
মামলাটির তদন্ত প্রসঙ্গে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার জানান, ২৪ ফেব্রুয়ারি মামলার নথিপত্র হাতে পাওয়া গেছে এবং একজন দক্ষ কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হবে। তদন্ত শেষে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।




















