প্রচ্ছদ

বিমানটিকে জনবসতি থেকে দূরে সরিয়ে নিতে সর্বাত্মক চেষ্টা করেছিলেন পাইলট

  প্রতিনিধি ২১ জুলাই ২০২৫ , ৮:৫৭:৪৩ প্রিন্ট সংস্করণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

রাজধানীর দিয়াবাড়ীতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যম্পাসে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৯ জন, আহত হয়েছেন ১৬৪ জন। বিমানবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনার সময় পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মো. তৌকির ইসলাম বিমানটিকে জনবসতি থেকে দূরে সরিয়ে নিতে সর্বাত্মক চেষ্টা করেছিলেন, যা আরও বড় প্রাণহানির সম্ভাবনা থেকে দেশকে রক্ষা করেছে।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, সোমবার (২১ জুলাই) দুপুর ১টা ৬ মিনিটে ঢাকার কুর্মিটোলায় অবস্থিত বিমানবাহিনী ঘাঁটি এ কে খন্দকার থেকে উড্ডয়নের কিছু সময় পরই বিমানটি যান্ত্রিক ত্রুটির সম্মুখীন হয়। ত্রুটির বিস্তারিত কারণ জানতে ইতোমধ্যে একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

আইএসপিআর জানায়—

“দুর্ঘটনার মুহূর্তে পাইলট জনবহুল এলাকা এড়িয়ে নিরাপদ স্থানে অবতরণের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত বিমানটি দিয়াবাড়ীর মাইলস্টোন স্কুলের একটি দোতলা ভবনে বিধ্বস্ত হয়।”

দুর্ঘটনায় বিমানচালকসহ ১৯ জন নিহত এবং ১৬৪ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টার ও অ্যাম্বুলেন্সের সহায়তায় তাদের দ্রুত সিএমএইচ, বার্ন ইউনিট, ঢাকা মেডিকেল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আইএসপিআর জানায়,

“বাংলাদেশ বিমানবাহিনী এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনায় গভীরভাবে মর্মাহত। হতাহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা সেবা ও সহায়তা নিশ্চিত করতে তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।”

দুর্ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে ছুটে যান বিমানবাহিনী, সেনাবাহিনী, র‍্যাব, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। বিমানবাহিনী প্রধান বর্তমানে দেশের বাইরে সরকারি সফরে থাকায় সহকারী বিমানবাহিনী প্রধান (প্রশাসন) এবং অন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উদ্ধার অভিযানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনী প্রধান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, উচ্চপর্যায়ের সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা।

দুর্ঘটনার প্রেক্ষাপটে সরকারের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার এক দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। নিহতদের স্মরণে দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে এবং বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনার আয়োজন করা হবে।

দেশবাসীর উদ্দেশে আইএসপিআর অনুরোধ করেছে— কেউ যেন গুজব না ছড়ায় এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অনুমাননির্ভর মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকে।

এই ঘটনায় গোটা জাতি শোকাহত, এবং শোকের ছায়া নেমে এসেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সর্বস্তরে। নিহতদের পরিবারের প্রতি দেশবাসী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক-সামাজিক মহল গভীর শোক ও সহানুভূতি প্রকাশ করছে।

আরও খবর

Sponsered content