প্রতিনিধি ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ , ৫:৫২:৫৬ প্রিন্ট সংস্করণ
দিনাজপুরের বিরামপুরে সরকারি অনুমোদন ছাড়াই চলছে দুটি প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার— বিরামপুর স্কয়ার হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং গ্রামীণ আই এন্ড হেলথ কেয়ার হাসপাতাল। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়ম-নীতি তোয়াক্কা না করেই তারা চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী কোনো প্রাইভেট হাসপাতাল বা ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালনার জন্য ট্রেড লাইসেন্স, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা লাইসেন্স, ইনকাম ট্যাক্স সার্টিফিকেট, ফায়ার সার্টিফিকেট, শ্রম অধিদপ্তর ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমোদনপত্র বাধ্যতামূলক। কিন্তু উক্ত দুটি প্রতিষ্ঠানের কোনোটির কাছেই এসব কাগজপত্র নেই।
চন্ডিপুর বাজারে অবস্থিত গ্রামীণ আই এন্ড হেলথ কেয়ার হাসপাতালের বাইরে ঝুলছে চক্ষু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ব্যানার, আর সাইনবোর্ডে লেখা রয়েছে গ্রামীণ আই চশমা। সপ্তাহে একদিন এখানে চোখের অপারেশনও করা হয়। অথচ নেই অনুমোদন কিংবা প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র। অনলাইনে করা একটি আবেদনের কপি কেবল টাঙানো আছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, গ্রামীণ এলাকায় চক্ষু ক্যাম্পের মাধ্যমে সহজ-সরল রোগীদের এখানে রেফার করে ঝুঁকিপূর্ণ অস্ত্রোপচার করা হচ্ছে।
অন্যদিকে পৌর শহরের পল্লবী সিনেমা মোড়ে অবস্থিত বিরামপুর স্কয়ার হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারেও একই চিত্র। অনুমোদন ছাড়াই চলছে কার্যক্রম, যদিও প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার দাবি করেছেন “হাসপাতাল চালু হয়নি, শুধু ডায়াগনস্টিক সেন্টার চলছে।”
গ্রামীণ আই এন্ড হেলথ কেয়ারের পরিচালক আরিফ বলেন, “আমরা অনলাইনে আবেদন করেছি, ছাড়পত্র ও অনুমোদনের জন্য চেষ্টা চলছে।”
স্কয়ার হসপিটালের ম্যানেজার মোফাচ্ছের হোসেনের দাবি— “অনলাইনে লাইসেন্সের জন্য আবেদন করা হয়েছে।”
তবে কেন অনুমোদনের আগেই সেবা চালু করা হয়েছে, এর কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি তারা।
বিরামপুর উপজেলা হাসপাতাল-ডায়াগনস্টিক মালিক সমিতির সভাপতি ডাঃ ইমার উদ্দিন কায়েস বলেন,“১৯টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এই দুইটির অনুমোদন নেই। এদের কারণে অন্য প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন হতে পারে। দ্রুত সমস্যার সমাধান করতে বলা হবে।”
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ লুৎফর রহমান জানান,“সব প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে অভিযানে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উপজেলা নির্বাহী অফিসার নুজহাত তাসনীম আওন বলেন, “গত জুলাইয়ে অভিযান চালিয়ে কয়েকটি ক্লিনিককে জরিমানা ও সতর্ক করা হয়েছিল। যেসব প্রতিষ্ঠান এখনও অনুমোদন নেয়নি, তাদের বিরুদ্ধেও শিগগিরই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”




















