খেলাধুলা

বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলেন কামিন্স, জায়গা হয়নি স্মিথের

  প্রতিনিধি ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ , ১:৪৫:০০ প্রিন্ট সংস্করণ

পিঠের চোটের কারণে অস্ট্রেলিয়ার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ স্কোয়াড থেকে ছিটকে গেছেন প্যাট কামিন্স। তার জায়গায় চূড়ান্ত ১৫ সদস্যের দলে সুযোগ পেয়েছেন বাঁহাতি পেসার বেন ডোয়ারশুইস। একই সঙ্গে খারাপ ফর্মের কারণে দল থেকে বাদ পড়েছেন ম্যাথু শর্ট, তার পরিবর্তে ফর্মের বিচারে দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে ম্যাট রেনশকে। এ ছাড়া চূড়ান্ত দলে জায়গা পাননি স্টিভেন স্মিথ।

এদিকে জশ হ্যাজলউড, টিম ডেভিড ও নাথান এলিস-তিনজনই বিশ্বকাপের জন্য ফিট হিসেবে বিবেচিত হয়েছেন। হ্যাজলউড অ্যাশেজের আগে হ্যামস্ট্রিং ও অ্যাকিলিসে চোট পাওয়ার পর আর খেলেননি। টিম ডেভিড হ্যামস্ট্রিং চোটের কারণে বিগ ব্যাশ লিগের (বিবিএল) বেশিরভাগ ম্যাচ ও পাকিস্তান সিরিজ মিস করেন। আর এলিস হ্যামস্ট্রিং সমস্যায় বিবিএল ফাইনাল ও পাকিস্তান সফর খেলতে পারেননি।

কামিন্সকে শুরুতে অস্ট্রেলিয়ার প্রাথমিক ১৫ সদস্যের দলে রাখা হয়েছিল, পরিকল্পনা ছিল টুর্নামেন্টের শুরুর দিকের ম্যাচগুলোতে তাকে বিশ্রামে রেখে ধীরে ধীরে ফিরিয়ে আনা। তিনি সর্বশেষ খেলেছিলেন গত ডিসেম্বরের মাঝামাঝি অ্যাডিলেড টেস্টে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। সেটিই ছিল গত জুলাইয়ের পর তার একমাত্র ম্যাচ, যখন প্রথমবারের মতো লাম্বার স্ট্রেস ইনজুরির লক্ষণ ধরা পড়ে।

অ্যাডিলেড টেস্টের পর অ্যাশেজ নিশ্চিত হওয়ায় তাকে বিশ্রামে রাখা হয়, লক্ষ্য ছিল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে পুরোপুরি ফিট করে তোলা। জানুয়ারির স্ক্যান রিপোর্ট ইতিবাচক হলেও ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া জানিয়েছে, কামিন্সের সম্পূর্ণ সুস্থ হতে ‘আরও সময় দরকার’। ক্রিকইনফো জানিয়েছে, আইপিএলের আগে তিনি পুরোপুরি ফিট হয়ে উঠতে পারেন।

ডোয়ারশুইস প্রাথমিক দলে জায়গা না পেয়ে দুর্ভাগ্যবান ছিলেন। চূড়ান্ত দলে এসে তিনি অস্ট্রেলিয়াকে বাঁহাতি পেসের বিকল্প দিচ্ছেন।

ম্যাথু শর্টকে বাদ দেওয়া হয়েছে মূলত খারাপ ফর্ম ও মিডল ওভারে স্পিন সামলাতে সক্ষম আরেকজন বাঁহাতি ব্যাটারের প্রয়োজনীয়তার কারণে। শুক্রবার পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক করা ম্যাট রেনশকে দলে নেওয়া হয়েছে। ঘরোয়া ক্রিকেট ও BBL-এ দীর্ঘদিন ধরে সাদা বলের ফরম্যাটে ভালো ফর্মে রয়েছেন তিনি। গত বছর অস্ট্রেলিয়ায় ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে অভিষেকেও স্পিনের বিরুদ্ধে দারুণ ব্যাটিং করে নজর কেড়েছিলেন।

স্টিভেন স্মিথের জন্য দলে জায়গা হয়নি। দুর্দান্ত বিবিএল ফর্মের কারণে তাকে ফেরানোর দাবি উঠলেও স্মিথকে মূলত নন-বোলিং ওপেনার হিসেবেই দেখা হয়। অস্ট্রেলিয়ার ওপেনিং জুটি ইতোমধ্যেই স্থির-অধিনায়ক মিচেল মার্শ ও সহ-অধিনায়ক ট্রাভিস হেড। পাশাপাশি ক্যামেরন গ্রিন ও গ্লেন ম্যাক্সওয়েলও টি-টোয়েন্টিতে ওপেনিংয়ে সফল হয়েছেন।

ম্যাক্সওয়েল ২০১৬ সালে পাল্লেকেলেতে ওপেনিংয়ে নেমে একটি টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি করেছিলেন-এই ভেন্যুতেই গ্রুপ পর্বে শ্রীলংকার মুখোমুখি হবে অস্ট্রেলিয়া। গত বছর ক্যারিবিয়ানে ট্রাভিস হেড না থাকায়, পাওয়ারপ্লেতে স্পিন আক্রমণ করলে ম্যাক্সওয়েল ওপেন করেছিলেন।

ম্যাক্সওয়েল চূড়ান্ত ১৫-তে নামমাত্র রিজার্ভ উইকেটকিপার হিসেবেও রয়েছেন, যদিও তিনি কখনো পেশাদার ম্যাচে কিপিং করেননি। দলে একমাত্র বিশেষজ্ঞ উইকেটকিপার জশ ইংলিস। তবে কোচিং স্টাফের অংশ হিসেবে বিশ্বকাপে থাকবেন সাবেক কিপার-ব্যাটার ম্যাথু ওয়েড। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিলেও তিনি এখনও হোবার্ট হারিকেন্সের হয়ে বিবিএল খেলছেন এবং জরুরি পরিস্থিতির কথা ভেবে নিজের খেলোয়াড়ি সরঞ্জাম সঙ্গে রাখবেন বলেও শোনা যাচ্ছে।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর জন্য অস্ট্রেলিয়ার স্কোয়াড: মিচেল মার্শ (অধিনায়ক), জেভিয়ার বার্টলেট, কুপার কনোলি, টিম ডেভিড, বেন ডোয়ারশুইস, ক্যামেরন গ্রিন, নাথান এলিস, জশ হ্যাজলউড, ট্রাভিস হেড, জশ ইংলিস, ম্যাট কুনেম্যান, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, ম্যাট রেনশ, মার্কাস স্টইনিস, অ্যাডাম জাম্পা।

আরও খবর

Sponsered content