নওগাঁ প্রতিনিধি ৭ আগস্ট ২০২৫ , ৩:০১:৫৮ প্রিন্ট সংস্করণ
নওগাঁর মান্দা উপজেলার প্রশাসনিক ভবনের সামনের ব্যস্ততম সড়কে দীর্ঘদিন ধরে চলা পয়ঃবর্জ্যের ভয়াবহ দূষণে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে এলাকাবাসী। কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় ব্যবসায়ী ও মুসল্লিরা বুধবার (৬ আগস্ট) দুপুরে প্রসাদপুর বাজারের তিনমাথা মোড়ে অবস্থিত ড্রেনের অবৈধ সংযোগ নিজেরাই বন্ধ করে দেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মূলত বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের উদ্দেশ্যে নির্মিত ড্রেনে কিছু বাসিন্দা অবৈধভাবে টয়লেটের পয়ঃবর্জ্য সংযোগ করে দেওয়ায় পুরো এলাকায় দুর্গন্ধ ও দৃষ্টিকটু পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। পয়ঃবর্জ্য মিশ্রিত পানি রাস্তায় গড়িয়ে পড়ছে, এমনকি মাঝে মাঝে দৃশ্যমান মলও ভেসে উঠছে। এতে করে জনগণের চলাচলে চরম দুর্ভোগ তৈরি হয়েছে।
ড্রেনের ঠিক পাশেই অবস্থিত উপজেলা পরিষদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা এবং একটি পুরনো কোর্ট মসজিদ। এসব গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার পাশে প্রতিদিন হাজারো মানুষ চলাচল করে। মুসল্লিরা জানান, নামাজে আসার পথে ড্রেনের দুর্গন্ধ সহ্য করা কঠিন হয়ে পড়ে, অনেক সময় অজু পর্যন্ত নষ্ট হয়ে যায়।
একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন, “আমরা প্রতিদিন দুর্গন্ধের মধ্যে দোকান খুলে বসে থাকি। প্রশাসনের নাকের ডগায় এত বড় দূষণ ঘটছে, অথচ কেউ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।”
মুসল্লিদের একজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মসজিদের পাশে যদি এমন নোংরামি হয়, তাহলে নামাজ পড়া তো দূরের কথা, দাঁড়িয়ে থাকাও কঠিন হয়ে পড়ে।”
এলাকার স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীরা জানান, দুর্গন্ধ এড়াতে তাদের রুমাল চেপে ধরে রাস্তা পার হতে হয়। অনেক সময় রাস্তায় হাঁটাও একপ্রকার ‘নরকযাত্রা’ মনে হয় বলে মন্তব্য করেন এক পথচারী।
স্থানীয় শিক্ষানুরাগীরা বলেন, “আমরা প্রশাসনের একেবারে সামনেই বসবাস করি, অথচ আমাদের এই দুর্ভোগ দেখার কেউ নেই। এটা খুবই লজ্জাজনক।”
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, বৃষ্টির পানি ও পয়ঃবর্জ্য একত্রে ড্রেনে মেশানো হলে পানিবাহিত রোগ—যেমন কলেরা, টাইফয়েড, ডায়রিয়া ছড়িয়ে পড়ার প্রবল ঝুঁকি থাকে। এটি শুধু পরিবেশ নয়, জনস্বাস্থ্য ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের সামিল।
এমতাবস্থায় এলাকাবাসী জোরালোভাবে দাবি জানাচ্ছেন:
ড্রেনের সব অবৈধ পয়ঃনিষ্কাশন সংযোগ অবিলম্বে বিচ্ছিন্ন করতে হবে
এলাকাটি নিয়মিত পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করতে হবে
ভবিষ্যতে যেন এমন অপরিকল্পিত সংযোগ না হয়, সেজন্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে
অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সচেতন নাগরিকরা।





















