আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রে মসজিদে হামলায় নিহতদের জানাজায় হাজারো মানুষের ঢল

  প্রতিনিধি ২২ মে ২০২৬ , ১১:৩৬:০৩ প্রিন্ট সংস্করণ

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সান ডিয়েগো শহরের মসজিদে বন্দুক হামলায় নিহত তিন ব্যক্তির আবেগঘন জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার শহরের একটি পার্কে দুই হাজারের বেশি মানুষ জানাজায় উপস্থিত হন। বার্তাসংস্থা আল-জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

জানাজায় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি ইউনিফর্ম পরিহিত পুলিশ কর্মকর্তারাও অংশ নেন। নিহতদের মরদেহ সাদা কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় একটি সাদা ছাউনির নিচে রাখা হয়। এ সময় উপস্থিত জনতা আরবিতে ‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনি দেন।

নিহত তিনজন হলেন-৫১ বছর বয়সী নিরাপত্তাকর্মী আমিন আবদুল্লাহ, ৭৮ বছর বয়সী মানসুর কাজিহা এবং ৫৭ বছর বয়সী নাদির আওয়াদ। পরে তাদের একই কবরস্থানে পাশাপাশি দাফন করা হয়।

স্থানীয় ইসলামিক সেন্টারের ইমাম তাহা হাসান বলেন, ‘আজকের এই সমাবেশ একটি বার্তা দিচ্ছে আমাদের সম্প্রদায় আঘাত পেয়েছে, কিন্তু আমরা এখনো দৃঢ় ও ঐক্যবদ্ধ।’

তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে মানুষ জানাজায় অংশ নিতে সান ডিয়েগোতে এসেছেন। কেউ কেউ অনেক দূর থেকেও উড়ে এসেছেন।

গত সোমবার সান ডিয়েগোর সবচেয়ে বড় মসজিদ ইসলামিক সেন্টার অব সান ডিয়েগোতে দুই কিশোর বন্দুকধারী হামলা চালায়। হামলায় নিহত তিন ব্যক্তি সাহসিকতার সঙ্গে হামলাকারীদের প্রতিহত করার চেষ্টা করেন।

পুলিশ জানায়, নিরাপত্তাকর্মী আমিন আবদুল্লাহ প্রথমে আততায়ীদের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন। তিনি রেডিওর মাধ্যমে দ্রুত মসজিদে লকডাউনের নির্দেশ দেন।

উল্লেখ্য, মসজিদের ভেতরে ১৪০ শিক্ষার্থীর একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও রয়েছে। তার এই পদক্ষেপের কারণে শিশু ও শিক্ষকরা নিরাপদে শ্রেণিকক্ষ ও আলমারির ভেতরে লুকানোর সময় পান বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নাদির আওয়াদ, যার স্ত্রী ওই কেন্দ্রে শিক্ষকতা করেন, এবং কেন্দ্রের কর্মী মানসুর কাজিহা গুলির শব্দ শুনে সাহায্যের জন্য ছুটে আসেন। পরে তিনজনই গুরুতর আহত হয়ে মারা যান।

পুলিশ জানায়, হামলাকারীরা পরে গাড়িতে পালিয়ে যায় এবং পরে তাদের মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।

সান ডিয়েগো পুলিশ প্রধান স্কট ওয়াহল বলেছেন, ঘটনাটি ঘৃণাজনিত অপরাধ (হেট ক্রাইম) হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে।

হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে ইসলামবিদ্বেষ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এই হামলাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন অনেকে।

আরও খবর

Sponsered content