প্রচ্ছদ

রাজশাহীর দূর্গাপুরে ভুয়া আল আকশা ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধের নির্দেশ

  মো: গোলাম কিবরিয়া, রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ , ৩:৫৪:৩৯ প্রিন্ট সংস্করণ

রাজশাহীর দূর্গাপুরে অনুমোদনহীনভাবে পরিচালিত ভুয়া আল আকশা ডায়াগনস্টিক সেন্টার অবশেষে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। দীর্ঘদিন ধরে অনুমোদন ছাড়াই প্রতিষ্ঠানটি চালু থাকলেও কর্তৃপক্ষের নজর এড়িয়ে যায়। তবে গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশিত হওয়ার পর উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ নড়েচড়ে বসে।

জানা গেছে, সেন্টারটি পরিচালনা করছিলেন দূর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মরত টেকনোলজিস্ট আব্দুল জলিল। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটিতে কোনো সরকারি অনুমোদন ছাড়াই বিভিন্ন ধরণের প্যাথলজি পরীক্ষা করা হচ্ছিল এবং অযোগ্য টেকনিশিয়ানদের মাধ্যমে রিপোর্ট প্রদান করা হচ্ছিল। এতে ভুল চিকিৎসা ও ভোগান্তির শিকার হচ্ছিল সাধারণ মানুষ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা যায়, আল আকশার প্যাডে বিভিন্ন স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগও উঠেছে। প্যাথলজিক্যাল মোঃ আজিজুল হক বলেন, “আমি রাজশাহীতে ডেপুটেশনে আছি। আল আকশার প্যাডে যে রিপোর্টে আমার স্বাক্ষর দেখানো হচ্ছে তা আসলে আমার নয়। তবে মাঝে মাঝে ছুটির দিনে আমি সেখানে রিপোর্ট দিতাম, কারণ প্রতিষ্ঠানে আমার স্ত্রীর মালিকানা অংশ রয়েছে।”

অপরদিকে, দূর্গাপুর উপজেলা ফ্যামিলি প্ল্যানিংয়ের প্রধান ডাঃ আঈশা নুসরাত জাহান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “অফিসিয়াল সময়ে আমি কখনো রোগী দেখি না বা রিপোর্ট প্রদান করি না। যেসব রিপোর্টে আমার নাম ও স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়েছে, তা ভুয়া। আমি সবসময় বাংলায় তারিখ লিখি, অথচ ওই রিপোর্টে ইংরেজিতে তারিখ দেওয়া হয়েছে।”

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা. রুহুল আমিন বলেন, “কোনোভাবেই অনুমোদনবিহীন প্রতিষ্ঠান চালানোর সুযোগ নেই। আল আকশা ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”

দূর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরিনা শারমিন জানান, বিষয়টি আগে তার জানা ছিল না। তবে এখন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা দ্রুত গ্রহণ করা হবে। রাজশাহীর সিভিল সার্জন এস.আই.এম রেজাউল করিম বলেন, “অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অনুমোদনবিহীন আল আকশার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

প্রশাসনের এ পদক্ষেপে স্থানীয়দের মাঝে স্বস্তি নেমে এসেছে। তাদের মতে, এ ধরনের অবৈধ প্রতিষ্ঠান বন্ধ হলে প্রতারণা থেকে মুক্তি পাবে রোগীরা এবং স্বাস্থ্যসেবার মানও উন্নত হবে।

আরও খবর

Sponsered content