সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি: ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ , ৭:৩৭:৩২ প্রিন্ট সংস্করণ
সাতক্ষীরা জেলাজুড়ে গড়ে উঠেছে ভেজাল ও নকল সার ব্যবসায়ীদের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। বাজারে ছড়িয়ে পড়া নকল সারের কারণে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে কৃষি উৎপাদন, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন হাজারো কৃষক। এ ভেজাল সার কারবারের অনুসন্ধান করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন যমুনা টেলিভিশনের সাতক্ষীরা প্রতিনিধি আকরামুল ইসলাম।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুর আনুমানিক ৩টার দিকে সাতক্ষীরার কুল্যা মোড় এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
সূত্র জানায়, গত ৪ জানুয়ারি সাতক্ষীরা শহরের সুলতানপুর বাজার থেকে বিপুল পরিমাণ নকল সার উদ্ধার করে কৃষি বিভাগ। পরে ৮ জানুয়ারি জব্দকৃত এসব সার ধ্বংস করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে ভেজাল সার বিক্রেতা আশরাফুল ইসলাম ও রবিউল ইসলাম জানান, আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা এলাকায় একটি বড় ভেজাল সার সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। সেখান থেকেই নকল সার ছড়িয়ে পড়ছে জেলার বিভিন্ন উপজেলায়।
এই তথ্যের ভিত্তিতে অনুসন্ধানে নামেন যমুনা টেলিভিশনের প্রতিনিধি আকরামুল ইসলাম। অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে ভেজাল সার সিন্ডিকেটের ভয়াবহ চিত্র। অভিযোগ রয়েছে, কৃষকদের প্রতারণা করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এই চক্র। কুল্যা ইউনিয়নের সার ডিলার মাজেদ গাজীকে এ সিন্ডিকেটের মূল হোতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, মাজেদ গাজী পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের নামে একাধিক সার ডিলার প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন। বুধহাটা বাজারসহ আশপাশের এলাকায় তার মালিকানায় রয়েছে ২৬টির বেশি সার গোডাউন। যদিও তিনি কুল্যা ইউনিয়নের অনুমোদিত ডিলার, তবে অবৈধভাবে বুধহাটা ইউনিয়নে তার সকল কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
মাজেদ গাজীর ছেলে আনোয়ার গাজীর মালিকানাধীন ‘গাজী এন্টারপ্রাইজ’ (বিএডিসি বীজ ও সার ডিলার) থেকে নকল সারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। আরেক ছেলে জাহাঙ্গীর গাজী লাইসেন্স ছাড়াই ‘মেঘা এন্টারপ্রাইজ’ নামে বুধহাটা বাজারে সার বিক্রি করছেন। এছাড়া মাজেদ গাজীর স্ত্রী জামেলা এন্টারপ্রাইজের নামে আশাশুনির খাজরা ইউনিয়নে ডিলারশিপ দেখানো হলেও বাস্তবে সেখানে এমন কোনো প্রতিষ্ঠান নেই; অবৈধভাবে বুধহাটায় এই ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে।
শুধু ভেজাল সার নয়, সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়েও বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। টিএসপি সারের সরকারি মূল্য কেজিপ্রতি ২৭ টাকা হলেও কৃষকদের কাছ থেকে তা ৩৬ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। এ অনিয়ম ও ভেজাল সার কারবারের অনুসন্ধান চলাকালেই সিন্ডিকেটের মাস্টারমাইন্ড মাজেদ গাজীর নেতৃত্বে সাংবাদিকের ওপর হামলা চালানো হয় এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়।
কৃষকরা অভিযোগ করে বলেন, সরকার নির্ধারিত দামে সার পাওয়া যায় না। বাধ্য হয়েই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। আগের তুলনায় বেশি সার ব্যবহার করেও ফসলের কাঙ্ক্ষিত ফলন মিলছে না। তারা ভেজাল সার ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
এ বিষয়ে কৃষি বিভাগ জানায়, সাংবাদিকের ওপর হামলার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ভেজাল সার ও অনিয়ম রোধে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “নকল ও অবৈধ সার বেচাকেনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে। কৃষকের ক্ষতি হয়—এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”




















