জাতীয়

রাজধানীতে কিশোর গ্যাং ‘শান্ত গ্রুপ’-এর দৌরাত্ম্য

  সোহেল রানা, ঢাকা: ২৩ অক্টোবর ২০২৫ , ১:১৮:০৭ প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানীর তেজগাঁও থানাধীন নাখালপাড়া এলাকায় দিন দিন বেড়েই চলেছে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা। ইভটিজিং, মারধর, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, ছিনতাই এমনকি হত্যার মতো ভয়ঙ্কর অপরাধেও জড়িয়ে পড়ছে অল্পবয়সী কিশোররা। স্থানীয়দের অভিযোগ—এলাকার সবচেয়ে সক্রিয় গ্যাংগুলোর একটি হচ্ছে “শান্ত গ্রুপ”, যাদের তৎপরতায় পুরো এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে আতঙ্কের পরিবেশ।

নাখালপাড়া এলাকায় ‘শান্ত গ্রুপ’-এর নেতৃত্বে রয়েছেন জুলাই হত্যা মামলার আসামি শান্ত। অল্প বয়সেই বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়া শান্ত লেখাপড়া ছেড়ে দেয় স্কুলজীবনের আগেই। এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে তার অপরাধের বিচার হয়নি।

জুলাই মাসের ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের মামলায় গ্রেফতার হলেও সম্প্রতি জামিনে বেরিয়ে আসে শান্ত। এরপর থেকেই তার দল আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। হাজিরা ও মামলার খরচ জোগাতে তারা ছিনতাই, মাদক বেচাকেনা ও ফিটিংয়ের মতো অপরাধে লিপ্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রতিদিন সন্ধ্যার পর পশ্চিম নাখালপাড়ার রেললাইনের পাশে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের পিলারের নিচে বসে গাঁজা সেবন করে শান্ত বাহিনীর সদস্যরা। সেখানে বসেই তারা নতুন নতুন অপরাধের পরিকল্পনা করে। গার্মেন্টস শ্রমিকদের কাছ থেকেও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটায় প্রায়ই।

এলাকাবাসীর দাবি, শান্ত বাহিনীর সদস্যরা চাঁদাবাজি, ছিনতাই, মাদক পরিবহন, যৌন হয়রানি, হাঙ্গামা ও খুনসহ নানা অপরাধে জড়িত। তাদের অনেকেই স্কুলছুট কিশোর।

একজন ভুক্তভোগী বলেন,“ওদের ভয়ে এলাকাবাসী মুখ খুলতে পারে না। প্রতিবাদ করলেই হামলার শিকার হতে হয়। স্থানীয় কিছু প্রভাবশালীর আশ্রয়-প্রশ্রয়ে তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।”

এ বিষয়ে তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি মো. মোবারক হোসেন) বলেন,“তেজগাঁও এলাকায় কোনো কিশোর গ্যাং থাকতে দেওয়া হবে না। গ্যাং কালচার দমনে আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে। কোনো কিশোর অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ পেলেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

আরও খবর

Sponsered content