জাতীয়

মহান নেতা শহীদ জিয়াউর রহমান: দেশপ্রেম ও নেতৃত্বের অনন্য প্রতীক

  প্রতিনিধি ২৪ অক্টোবর ২০২৫ , ১১:০৭:০৫ প্রিন্ট সংস্করণ

সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের ইতিহাসে দেশপ্রেম ও নেতৃত্বের প্রতীক। তিনি ছিলেন এক মহান নেতা, যিনি দেশ ও জাতির কল্যাণে আজীবন নিবেদিত ছিলেন। বাংলাদেশের উন্নয়ন ও মানবাধিকারের প্রশ্নে আজও তাঁর মতো একজন দূরদর্শী নেতার প্রয়োজন অনুভূত হয়।

দেশপ্রেম এমন এক অনুভূতি, যা হঠাৎ করে জন্ম নেয় না—এটি সময়ের সঙ্গে পরিপক্ব হয়। জিয়াউর রহমানের জীবনে দেশপ্রেমের প্রকাশ ঘটেছিল অসংখ্য কর্মে। তিনি তরুণ বয়সে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার মহান ব্রত নিয়ে। সেনাবাহিনীতে যোগদানের আগে প্রত্যেক সদস্যকে এক প্রতিশ্রুতিপত্রে স্বাক্ষর করতে হয় যে যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত হলেও তাঁদের মরদেহ ফেরত দেওয়া নাও হতে পারে—এমন ঝুঁকি জেনেও তিনি সেনাবাহিনীকে পেশা হিসেবে বেছে নেন।

আর্থিকভাবে স্বচ্ছল পরিবারে জন্ম নিয়েও জীবিকার প্রয়োজনে নয়, বরং দেশপ্রেম ও শৃঙ্খলার প্রতি আকর্ষণ থেকেই তিনি সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। তাঁর চাচা ক্যাপ্টেন (ড.) মোনতাজুর রহমানের আদর্শ তাঁকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে।

১৯৫৩ সালে পাকিস্তানের কাকুল মিলিটারি একাডেমিতে অফিসার ক্যাডেট হিসেবে যোগ দিয়ে ১৯৫৫ সালে কমিশনপ্রাপ্ত হন জিয়াউর রহমান। এরপর তিনি দক্ষ প্যারাসুটার ও কমান্ডো অফিসার হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে খেমকারান সেক্টরে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য ‘হিলাল-ই-জুরাত’ খেতাব লাভ করেন।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতের ভয়াল গণহত্যার পর ২৬ মার্চ চট্টগ্রামে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে জিয়াউর রহমান হয়ে ওঠেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সাহসী নেতৃত্বের প্রতীক। তাঁর নেতৃত্বেই দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে গঠিত হয় ‘Z Force’—যা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয়।

স্বাধীনতার পর রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে তিনি যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে পুনর্গঠনের কাজে আত্মনিয়োগ করেন। ‘স্বনির্ভর বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে তিনি কৃষি, শিল্প ও মানবসম্পদ উন্নয়নে যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেন।

১৯৭৬ সালে সাংবাদিক কেভিন র্যাফাটির সাক্ষাৎকারে তিনি বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে “এশিয়ার চ্যাম্পিয়ন” হিসেবে অভিহিত করেন। বিদেশি সাহায্যের পরিবর্তে জিয়াউর রহমান মানবসম্পদ রপ্তানির উদ্যোগ নিয়ে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সের ভিত্তি গড়ে তোলেন—যার ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ আজও এগিয়ে চলছে।

রাজনীতিতে তিনি নতুন ধারার সূচনা করেন জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) গঠন করে, যা আজও বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল হিসেবে টিকে আছে।

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছিলেন শুধু একজন নেতা নন, তিনি ছিলেন দেশের প্রতি নিবেদিত এক দেশপ্রেমিক সৈনিক। তরুণ প্রজন্ম যদি তাঁর আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশ গঠনে এগিয়ে আসে, তবে বাংলাদেশ আরও সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী হয়ে উঠবে—এমন প্রত্যাশা জাতির প্রতিটি নাগরিকের।

আরও খবর

Sponsered content