অপরাধ

বাঘায় স্ত্রীকে ডিজেল ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা মামলার প্রধান আসামি আটক

  প্রতিনিধি ২২ নভেম্বর ২০২৫ , ১১:০৯:০৬ প্রিন্ট সংস্করণ

রাজশাহীর বাঘায় স্ত্রী অনন্যা খাতুন মুন্নিকে ডিজেল ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার মামলায় এজাহারনামীয় ১ নম্বর আসামি স্বামী মো. সুরুজ (৩২)–কে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৫।

শুক্রবার (২১ নভেম্বর) রাত ১২টা ১০ মিনিটে ঢাকার পল্লবী থানাধীন মিরপুর-১২ (লালডেগ) এলাকা থেকে র‌্যাব-৫, সিপিএসসি রাজশাহী এবং র‌্যাব-৪, সিপিসি-১ মিরপুর ক্যাম্পের যৌথ অভিযানে তাকে আটক করা হয়। আটক সুরুজ রাজশাহীর বাঘা উপজেলার চক নারায়ণপুর গ্রামের শহিদুল মাঝির ছেলে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় ১০ বছর আগে সুরুজের সঙ্গে অনন্যা খাতুন মুন্নির বিয়ে হয়। তাদের দুটি সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের হাতে অনন্যা মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতেন।

বিয়ের কয়েক বছর পর ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দাবি করা হয়, যার মধ্যে ১ লাখ টাকা ২০১৮ সালের মে মাসে দেওয়া হয়। এরপরও বাকি ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার জন্য নির্যাতন বাড়তে থাকে।

গত ৩১ অক্টোবর ২০২৫ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় যৌতুকের দাবিতে দম্পতির মধ্যে তুমুল ঝগড়া ও মারধর হয়। পরদিন ১ নভেম্বর ভোর ৪টার দিকে উঠানে নিয়ে সুরুজ অনন্যার শরীরে ডিজেল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন বলে অভিযোগ ওঠে।

গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় স্থানীয়রা উদ্ধার করে প্রথমে বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। একই দিন বিকাল ৫টা ৪০ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অনন্যা মারা যান।

এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং সংবাদটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে ভিকটিমের ভাই বাদী হয়ে বাঘা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

ঘটনার পর থেকে আসামিকে ধরতে র‌্যাব ছায়া তদন্ত ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে। অবশেষে যৌথ আভিযানিক দল মিরপুর-১২ থেকে সুরুজকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

গ্রেফতারের পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

আরও খবর

Sponsered content