সোহেল খান দূর্জয়, নেত্রকোনা: ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ , ৩:২৬:৩৬ প্রিন্ট সংস্করণ
নেত্রকোনায় আদম দালালের খপ্পরে পড়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে একটি পরিবার। নেত্রকোনা সদর উপজেলার সিংহের বাংলা ইউনিয়নের পঞ্চাননপুর গ্রামের বাসিন্দা ফজলু মিয়ার ছেলে ইয়াসিন আরাফাতের কাছ থেকে বিদেশ পাঠানোর কথা বলে ১২ লাখ টাকা নিয়ে উধাও হয়েছে একই উপজেলার ঠাকুরাকোনা ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. সাকিব হোসেন মুন্না, নাজমুল হোসেন (পিতা মৃত মনো মিয়া), মো. বাবুল মিয়া (পিতা হাবিবুর রহমান) এবং দুর্গাশ্রম গ্রামের বাসিন্দা আরশাদ মিয়া (পিতা মৃত সন্তু মিয়া) নামে একটি আদম দালাল চক্র।
এ ঘটনায় এলাকায় একাধিকবার গ্রামীণ দরবার ও শালিস হলেও কোনো সুরাহা হয়নি। পরে ভুক্তভোগী ইয়াসিন আরাফাত আদালতে বিজ্ঞ মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। তবে মামলা দায়েরের পরও অভিযুক্তরা ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও পুলিশ বলছে, প্রতারকদের ধরতে বিশেষ অভিযান চলছে।
সরেজমিনে জানা গেছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে ইয়াসিন আরাফাতের কাছ থেকে দুই থেকে আড়াই মাসের মধ্যে রাশিয়ায় নেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ১২ লাখ টাকা নেয় অভিযুক্তরা। কিন্তু প্রায় এক বছর পার হলেও তাকে বিদেশে পাঠানো হয়নি। এতে করে চরম হতাশায় ভুগছেন ইয়াসিন আরাফাত ও তার পরিবার। শুধু ইয়াসিনই নন, একই চক্র স্থানীয় আরও বহু মানুষের কাছ থেকেও প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে লাপাত্তা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগী ইয়াসিন আরাফাত জানান, গবাদিপশু বিক্রি, জমি বন্ধক ও সুদে টাকা এনে ১২ লাখ টাকা দেন তিনি। সাকিব হোসেন মুন্না তার নিকটাত্মীয় হওয়ায় বিশ্বাস করে এই টাকা দিয়েছিলেন। কিন্তু বিদেশে নিতে না পারায় টাকা ফেরত চাইলে টালবাহানা শুরু করে চক্রটি। পরে তারা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।
ইয়াসিন আরাফাত বলেন, “আমাকে বিদেশে নেয়নি, আবার আমার ১২ লাখ টাকাও ফেরত দেয়নি। ধারদেনা করে টাকা দিয়েছি, এখন খুব সমস্যায় আছি। আমার স্বপ্ন ছিল বিদেশে গিয়ে পরিবারের স্বচ্ছলতা ফেরাবো, কিন্তু সব শেষ হয়ে গেল।”
তিনি আরও বলেন, “সাকিব হোসেন মুন্না তখন রাশিয়ায় থাকায় তার ভাই নাজমুল হোসেনের হাতে টাকা দিই। তারা বলেছিল দুই-আড়াই মাসের মধ্যে বিদেশে নিয়ে যাবে। এখন তারা সবাই পলাতক। আমরা আমাদের টাকা ফেরত চাই, পাশাপাশি এই প্রতারক চক্রের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
এ বিষয়ে নেত্রকোনা পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, “বিদেশে নেওয়ার কথা বলে অসহায় মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছে একটি চক্র। ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী প্রায় কোটি টাকা নিয়ে তারা লাপাত্তা হয়েছে। অভিযুক্তদের ধরতে পুলিশের বিশেষ অভিযান চলছে। শিগগিরই তারা আইনের আওতায় আসবে।”
এদিকে অভিযুক্ত সাকিব হোসেন মুন্নার বাড়ি সৈয়দপুর গ্রামে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও বন্ধ থাকায় তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।




















