সোহেল খান দূর্জয়, নেত্রকোনা: ১১ মার্চ ২০২৬ , ২:০৩:২৯ প্রিন্ট সংস্করণ
নেত্রকোনা জেলার বিভিন্ন সড়কে টোকেন বা ভুয়া রসিদ দিয়ে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। জেলা শহরসহ আটপাড়া, বারহাট্টা ও মোহনগঞ্জ পৌরসভার বিভিন্ন সড়কে প্রতিদিন শত শত যানবাহন থেকে টোলের নামে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন চালক ও স্থানীয়রা।
অভিযোগ রয়েছে, একটি চক্র ‘নেত্রকোনা জেলা মোটরযান কর্মচারী ইউনিয়ন’, ‘মোহনগঞ্জ পৌরসভা’, ‘গোপালপুর বাজার’, ‘আসমা বাজার’ ও ‘সেতু বাজার গোয়াতলা’র নাম ব্যবহার করে ভুয়া টোকেন বা রসিদ তৈরি করে যানবাহন থেকে টাকা আদায় করছে। এসব রসিদে বিভিন্ন হারে টাকার পরিমাণ উল্লেখ করে প্রতিদিন বিপুল অঙ্কের অর্থ আদায় করা হচ্ছে।
সরেজমিনে জানা যায়, জেলার বিভিন্ন শাখা সড়কে চলাচলরত কাভার্ড ভ্যান, ইট-বালু ও সিমেন্টবাহী ট্রাক, বাসাবাড়ি পরিবর্তনের মালবাহী ট্রাক, পিকআপ, লেগুনা ও অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহনের কাছ থেকে টোলের নামে চাঁদা নেওয়া হচ্ছে। এতে জেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা ও চালকেরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন।
চাঁদাবাজরা যানবাহনের চালকদের হাতে একটি টোকেন ধরিয়ে দেয়, যার শিরোনামে লেখা থাকে— ‘মোহনগঞ্জ পৌরসভা’, ‘নেত্রকোনা জেলা মোটরযান কর্মচারী ইউনিয়ন’, ‘সেতু বাজার গোয়াতলা’, ‘গোপালপুর বাজার’ ও ‘আসমা বাজার কর্তৃক ইজারাকৃত সব যানবাহনের টোল’। মোহনগঞ্জ পৌরসভার টোকেনে প্রতিটি গাড়ির জন্য ১০০ টাকা উল্লেখ থাকলেও গোপালপুর বাজার ও মোটরযান কর্মচারী ইউনিয়নের টোকেনে নির্ধারিত টাকার অঙ্ক উল্লেখ নেই। আসমা বাজার টোকেনে ১২০ টাকা এবং সেতু বাজার গোয়াতলা টোকেনে ট্রাক লোড-আনলোড ২০০ টাকা, পিকআপ ১৫০ টাকা, ঔষধের গাড়ি ১৩০ টাকা, অটো টেম্পু ৮০ টাকা, ভ্যানগাড়ি ৮০ টাকা, হাতের ডেলিভারি ৭০ টাকা ও মোটরসাইকেল-বাইসাইকেল ৫০ টাকা লেখা রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এসব চাঁদা আদায়ের কাজে কিশোর গ্যাংয়ের ৮ থেকে ১০ জনের দলকে ব্যবহার করা হচ্ছে। তারা সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দুই শিফটে বিভিন্ন সড়কের মোড়ে দাঁড়িয়ে চাঁদা আদায় করছে। দিন শেষে এসব অর্থ বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের কাছে পৌঁছে যায় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে যানবাহনের চালকদের অভিযোগ, সড়কের মাঝখানে গাড়ি থামিয়ে চাঁদা আদায়ের কারণে প্রায়ই যানজট সৃষ্টি হয় এবং অনেক সময় চালকদের সঙ্গে চাঁদাবাজদের বাকবিতণ্ডাও হয়। একাধিক অটোরিকশা ও লেগুনা চালক জানান, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের মারধর বা গাড়ির গ্লাস ভাঙার হুমকি দেওয়া হয়।
চালক ও স্থানীয়দের দাবি, টোলের নামে এ ধরনের চাঁদাবাজি বন্ধে প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। এর আগে এ চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে জেলার বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে লেগুনা ও অটোরিকশা চালক-মালিকরা বিক্ষোভ ও মিছিলও করেছিলেন।
এ বিষয়ে সচেতন মহল প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।




















