শিক্ষা ও শিক্ষাঙ্গন

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক পোষ্যদের স্কুলপরিবহনে ভর্তুকি ৪০ লাখ

  প্রতিনিধি ১৬ এপ্রিল ২০২৬ , ১২:০৭:৪১ প্রিন্ট সংস্করণ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) পরিবহন সেক্টরের মাধ্যমে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক পোষ্যদের স্কুলে যাতায়াত সুবিধাও দেওয়া হয়। এতে বছরে প্রায় ৪০ লাখ টাকার ভর্তুকি গুনতে হয় বিশ্ববিদ্যালয়কে। শিক্ষক পোষ্যদের এ সুবিধা নিয়ে নানা সমালোচনা থাকলেও ভর্তুকির বিষয় সামনে আসায় শিক্ষার্থীদের মাঝে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষনা, মেডিকেল, প্রয়োজনীয় একাডেমিক ভবন, পরিবহনের রুট বৃদ্ধি, শিক্ষা ও গবেষনা সামগ্রীর প্রশ্নে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বাজেট ঘাটতির কথা বললেও পোষ্য আনয়ন খাতে ভর্তুকি চলমান রয়েছে। যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেলে বার্ষিক বাজেট মাত্র ৪৫ লাখ টাকার বেশি বরাদ্দ সম্ভব হয় না, সেখানে পোষ্য পরিবহনে মোটা অংকের (৪০ লাখ) ভর্তুকি কেন- এমন প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই।

জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসের মাধ্যমে সাভার সেনা পাবলিক স্কুল, সাভার ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও মর্নিং গ্লোরি স্কুলে প্রতিদিন শিক্ষকদের সন্তানদের আনা নেওয়া করে বিশ্ববিদ্যায়ের বাস। অরুনাপল্লী-ক্যাম্পাস-মর্নিং গ্লোরি স্কুল রুটে চলাচলকারী বাস দৈনিক ৫ বার যাতায়াতে ১২৫ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে।

অন্যদিকে অরুনাপল্লী-ক্যাম্পাস-সাভার ক্যান্টনমেন্ট পাব্লিক স্কুল-সেনা পাবলিক স্কুল রুটে চলাচলকারী বাস দৈনিক ৯ বার যাতায়াতে ২৭০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে। সবমিলিয়ে দৈনিক ৩৯৫ কিলোমিটার পথ যাতায়াতে প্রায় ১৫৮ লিটার জ্বালানি ব্যয় হয়, যার বাজারমূল্য ১৫ হাজার ৮০০ টাকা।

এছাড়া ওভারটাইম দায়িত্ব পালনের কারণে দৈনিক তিনজন বাসচালক, তিনজন হেল্পার এবং বাস রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ প্রায় ৪ হাজার ৬ শত এক টাকা ব্যয় হয়। ফলে প্রতিদিন সর্বমোট ২০ হাজার ৪ শত এক ও মাসিক প্রায় ৪ লাখ ৮ হাজার টাকা এ খাতে ব্যয় হচ্ছে। তবে, এর খরচ বাবদ যাতায়াতকারীদের থেকে প্রাপ্ত মাসিক ফি মোট ৭৪ হাজার টাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জমা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়কে বাকী অর্থ অথ্যাৎ প্রায় ৩ লাখ ৩৪ হাজার টাকা মাসিক ভর্তুকি গুনতে হয়। বছরে এ ভর্তুকির পরিমান দাঁড়ায় প্রায় ৪০ লাখ ৮ হাজার টাকা। গত ১০ বছরে এই খাতে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রায় ৪ কোটি ৮০ হাজার টাকা ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরতদের পরিবহন সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি স্বাভাবিক চোখে দেখা হলেও পোষ্যদের পরিবহন সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি আগে থেকেই শিক্ষার্থীদের মুখে সমালোচিত হয়ে আসছিল। তবে, এই মোটা অংকের ভর্তুকির বিষয়ে জানতেন না অনেকেই।

জানার পর শিক্ষার্থীদের অনেকেই অবাক হয়েছেন। তারা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাসরুম সংকটের কারণে খোলা আকাশের নিচে মুক্তমঞ্চে, সপ্তম ছায়ামঞ্চে কিংবা মহুয়া মঞ্চে ক্লাস করার নজির আছে। আবার, অর্থসংকটে আটকে আছে আইবিএ ভবনের নির্মান কাজ। আইন অনুষদ, তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউট, বিজনেস অনুষদসহ বিভিন্ন বিভাগের ক্লাসরুম সংকট প্রায় এক যুগেরও বেশি সময় ধরে চলে আসছে। এসব বিভাগের ভবন নির্মানে এখনও দেখা যায়নি কোনও উদ্যোগ।

অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট বাজেটের প্রায় ৭৫ শতাংশ বেতন-ভাতা, পেনশন ও অবসর সুবিধায় ব্যয় হয়। এরপরও শিক্ষক পোষ্যদের এমন সুবিধাকে ‘অযাচিত-অযৌক্তিক’ আখ্যা দিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থী স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে যখন প্রশাসনের সহায়তা চাই তখন আমাদের বাজেট ঘাটতির কথা বলা হয়। সর্বশেষ সভায় আমরা শিক্ষার্থী স্বার্থের বাইরের ভর্তুকি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছি, কিন্তু প্রশাসন কোন সদুত্তর দিতে পারেননি। এসব ভর্তুকি বন্ধের জন্য আমরা চেষ্টা করছি।’

এ বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা-গবেষনা, পরিবহন, মেডিকেলসহ বিভিন্ন খাতে প্রচুর আর্থিক ঘাটতি রয়েছে। আমরা চাই, এ ধরনের ভর্তুকি বন্ধ করে শিক্ষার্থীদের কল্যানে এ অর্থ ব্যয় করা হউক।’

এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আবদুর রব বলেন, ‘এটি দীর্ঘদিন যাবৎ চলে আসছে। এই ব্যয় চলমান রাখা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য কঠিন। আমরা এ বিষয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব।’

আরও খবর

Sponsered content