ঢাকার বনানী ও মহাখালী এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে অপরাধ কর্মকাণ্ড বেড়ে যাওয়ায় জনজীবনে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রকাশ্যে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের উপস্থিতি, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা এবং কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্যে এলাকা জুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একের পর এক গুলিবর্ষণ, ছিনতাই ও হামলার ঘটনায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি নাজুক হয়ে পড়েছে। মহাখালী কাঁচাবাজার এলাকায় গুলি করে একজনকে আহত করার ঘটনা, টিবি গেট এলাকায় ফার্মেসিতে সশস্ত্র ডাকাতি এবং বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজির অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
অভিযোগ রয়েছে, এসব অপরাধের পেছনে রয়েছে টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, ডিস ব্যবসা ও মাদক বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ চক্রের সক্রিয়তা। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের দাবি, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় কিছু অপরাধী জামিনে বেরিয়ে এসে আবারও একই ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।
এদিকে কড়াইল ও আশপাশের বস্তি এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে একাধিক সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে। এতে সাধারণ মানুষ আরও বেশি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন, নিরাপত্তাহীনতার কারণে স্বাভাবিক জীবনযাপন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। কখন কী ঘটনা ঘটে, সেই আশঙ্কায় সবসময় থাকতে হয়।
সাবেক এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা মনে করেন, রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও কঠোর আইন প্রয়োগ ছাড়া এ পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয়। অপরাধীদের রাজনৈতিক বা অন্য কোনো প্রভাবমুক্তভাবে আইনের আওতায় আনতে না পারলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে না।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ জানিয়েছে, অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান চলছে এবং সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি পুলিশের ভেতরে কোনো অসাধু সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে বনানী–মহাখালী এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে।