হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ১৫ মে ২০২৬ , ৭:১৩:০০ প্রিন্ট সংস্করণ
ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী বড়মাঠের এক কোণে পড়ে থাকতে দেখা গেছে চলমান এসএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্রের বান্ডিল। এ ঘটনায় জেলায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাতে বিদ্যালয়ের বড়মাঠের উত্তর-পূর্ব কোণে শহীদ মিনারের পাশ থেকে বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের ৫০টি উত্তরপত্র উদ্ধার করে পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাতে কয়েকজন যুবক বড়মাঠ এলাকায় ঘোরাফেরার সময় মাঠের এক পাশে পড়ে থাকা একটি বান্ডিল দেখতে পান। কাছে গিয়ে তারা বুঝতে পারেন, সেটি চলমান এসএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র। পরে খাতাগুলোতে “বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়” বিষয়ের নাম দেখে তারা দ্রুত পুলিশকে খবর দেন।
খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উত্তরপত্রগুলো উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে গণনা করে দেখা যায়, সেখানে মোট ৫০টি খাতা রয়েছে।
জানা গেছে, গত ৫ মে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের পরীক্ষার এসব উত্তরপত্র মূল্যায়নের জন্য শিক্ষকদের কাছে বিতরণ করা হয়েছিল। তবে কীভাবে এত গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার খাতা মাঠে পড়ে রইল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সাধারণ মানুষ ও অভিভাবকদের মধ্যে।
ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিব মোতাহার উল আলম বলেন, “পরীক্ষা শেষে কেন্দ্র থেকে উত্তরপত্র বোর্ডে পাঠানো হয়। পরে বোর্ড সেগুলো মূল্যায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের কাছে হস্তান্তর করে। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের উত্তরপত্র শিক্ষকদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছিল। বাড়ি ফেরার পথে অসাবধানতাবশত খাতাগুলো পড়ে যেতে পারে। তবে যার দায়িত্বে ছিল, তার আরও সতর্ক থাকা উচিত ছিল।”
এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক ও সচেতন মহল। তাদের প্রশ্ন, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ উত্তরপত্র যদি এভাবে মাঠে পড়ে থাকে, তাহলে পরীক্ষাব্যবস্থার নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, “খবর পাওয়ার পর পুলিশ বড়মাঠ থেকে এসএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্রের একটি বান্ডিল উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। সেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের ৫০টি উত্তরপত্র পাওয়া গেছে। বর্তমানে সেগুলো পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনাটি এখন ঠাকুরগাঁওজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। অনেকেই এটিকে দায়িত্বে অবহেলার গুরুতর উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। একই সঙ্গে দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের চিহ্নিত করার দাবিও উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।



















