সারাদেশ

মসজিদের ওয়াকফকৃত জমি নিয়ে বিরোধ, সভাপতিকে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

  সোহেল খান দূর্জয়, নেত্রকোণা প্রতিনিধি: ১০ জুন ২০২৬ , ১১:২৩:১০ প্রিন্ট সংস্করণ

 

 

নেত্রকোণার সদর উপজেলার গাছগড়িয়া জামে মসজিদের ওয়াকফকৃত জমি নিয়ে চলমান বিরোধকে কেন্দ্র করে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতিকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিরাপত্তা চেয়ে নেত্রকোণা মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার জন্য লিখিত আবেদন করেছেন মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. সাইদুর রহমান (৪৫)।

লিখিত অভিযোগে জানা যায়, গাছগড়িয়া জামে মসজিদের নামে ওয়াকফকৃত প্রায় ৪৫ শতাংশ জমি সংক্রান্ত রেকর্ড সংশোধন ও উচ্ছেদ বিষয়ে একটি দেওয়ানি মামলা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি হিসেবে সাইদুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে মামলাটি পরিচালনা করে আসছেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, মামলার বিবাদী মো. নয়ন মিয়া (৪৫), মো. লাক মিয়া (৩৫), মো. আঙ্গুর মিয়া (৪০) ও মো. হাবিবুর রহমান (৫০) দীর্ঘদিন ধরে মসজিদে প্রবেশের রাস্তা নির্মাণকাজে বাধা দিয়ে আসছেন। এছাড়া মসজিদের আরেকটি জমি অবৈধভাবে দখল করে রাখার অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

সাইদুর রহমানের দাবি, গত ২৭ মে রাত আনুমানিক ৮টার দিকে গাছগড়িয়া বাজারের একটি চায়ের দোকানে অবস্থানকালে অভিযুক্তরা তার কাছে এসে বিচারাধীন মামলাটি পরিচালনা না করার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। তিনি এতে রাজি না হলে তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। পরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন ব্যক্তি এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

তিনি আরও জানান, ঘটনার পর বিষয়টি মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদকসহ অন্যান্য সদস্যদের অবহিত করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং যেকোনো সময় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মামলার ১ নম্বর বিবাদী নয়ন মিয়া। তিনি বলেন, “আমি কাউকে কোনো ধরনের হুমকি দিইনি। অভিযোগের সত্যতা তদন্তে প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী যে সিদ্ধান্ত হবে, তা মেনে নেব।”

এ বিষয়ে নেত্রকোণা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আল মামুন সরকার বলেন, “ভুক্তভোগীর অভিযোগের বিষয়টি জেনেছি। তার সঙ্গে কথা বলে ঘটনাটি তদন্ত করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

স্থানীয়দের মতে, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা জরুরি।

আরও খবর

Sponsered content