মাহবুবুজ্জামান সেতু,নওগাঁ প্রতিনিধি ১৩ জুন ২০২৬ , ৯:১৩:৫৬ প্রিন্ট সংস্করণ
নওগাঁয় পুরাতন মোবাইল ও ইলেকট্রনিক্স পণ্য ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলামকে হত্যার অভিযোগে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় নিহত শফিকুলের ব্যবহৃত দুটি মোবাইলফোন, একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।উদ্ধার করা হয় দেশীয় অস্ত্র।
শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে সদর মডেল থানায় সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান নওগাঁ পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।
নিহত শফিকুল জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর উপজেলার তিলেকপুর গ্রামের আজিজার রহমানের ছেলে। তিনি পুরাতন মোবাইল ও ইলেকট্রনিক্স পণ্যের ব্যবসা করতেন।
গ্রেপ্তাররা হলেন- নওগাঁ সদর উপজেলার ভিমপুর পাঠাকাটা এলাকার সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে জয়নুল (৩৫) ও মান্দা উপজেলার সতীহাট শ্রীরামপুর এলাকার এরশাদ আলীর ছেলে আশরাফুল (২৬)।
সংবাদ সম্মেলনে এসপি জানান, গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সদর উপজেলার বারোমাসি বিলে কচুরিপানা নিচ থেকে শফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়।
নিহত শফিকুল পুরাতন মোবাইল ও ইলেকট্রনিক্স পণ্য ব্যাবসা করতেন। লোভ এবং ব্যবসায় কিছুটা লাভবান হওয়ায় ঈর্ষান্বিত হয়ে তার পূর্বপরিচিত জয়নুল, আশরাফুলসহ তিনজন গত ৭ জুন মান্দার সুতিহাটে শফিকুলকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী ৮ জুন শফিকুলকে ভীমপুর কলেজ মোড়ে আসতে বললে সেখান থেকে দুটি মোটরসাইকেলে করে বারোমাসি বিলে পার ঘাটি ব্রিজে চলে যান তারা। সেখানে হঠাৎ করে পেছন থেকে একজন পলাতক আসামি রশি দিয়ে শফিকুলের গলায় টান দেন। টান দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জয়নুল হাত ও আশরাফুল পা চেপে ধরেন। তারপর সে নিস্তেজ হয়ে গেলে তার মৃত্যু নিশ্চিত করতে তারা তিনজনে পানিতে ডুবিয়ে কচুরিপানা দিয়ে ঢেকে রেখে মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যান।
এসপি তারিকুল ইসলাম আরও জানান, লাশ উদ্ধারের পর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে তদন্তে নামে পুলিশের একটি টিম। তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকা জয়নুলকে প্রথমে জেলা শহরের একটি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মান্দা উপজেলা থেকে আশরাফুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর জয়নুল এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা স্বীকার করেছেন। হত্যা পর শফিকুলের কাছে থাকা দেড় হাজার টাকা তিনজন ভাগাভাগি করে শফিকুলের মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যান।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, জয়ব্রত পাল ও সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামানসহ পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।














