প্রতিনিধি ৪ জুলাই ২০২৬ , ১:২২:৪২ প্রিন্ট সংস্করণ
ফিফা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে প্রথমবারের মতো জয় তুলে নিয়ে ইতিহাস গড়েছে মিসর। অস্ট্রেলিয়াকে টাইব্রেকারে ৪-২ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করার পর এই ঐতিহাসিক জয় মিসর ও ফিলিস্তিনের জনগণের উদ্দেশে উৎসর্গ করেছেন দলটির প্রধান কোচ হোসাম হাসান।
শুক্রবার ডালাস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত শেষ বত্রিশের ম্যাচে নির্ধারিত সময় ও অতিরিক্ত সময় শেষে ১-১ সমতা থাকায় খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে অস্ট্রেলিয়ার হ্যারি সাউতার ও লুকাস হেরিংটন স্পটকিক থেকে গোল করতে ব্যর্থ হলে মিসরের হোসাম আবদেলমাগুইদের সফল শটে ৪-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয়।
এর ফলে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে নিজেদের ইতিহাসের প্রথম জয় তুলে নেয় মিসর। এবার শেষ ষোলোতে তাদের প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনা।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে হোসাম হাসান বলেন, ‘আল্লাহ যেন ফিলিস্তিনিদের বিজয় দান করেন এবং তাদের শহীদদের প্রতি রহমত বর্ষণ করেন। আমি এই জয় মিসরের জনগণ এবং ফিলিস্তিনের সেই মহান ও সম্মানিত মানুষদের উদ্দেশে উৎসর্গ করছি।’
জয়ের পর মাঠে মিসর ও ফিলিস্তিনের জাতীয় পতাকা হাতে দেখা যায় হোসাম হাসানকে। অন্যদিকে, খেলোয়াড়রা একসঙ্গে সিজদায় লুটিয়ে পড়ে ঐতিহাসিক এই সাফল্য উদযাপন করেন।
মিসরের এই জয়ে ফিলিস্তিনেও আনন্দের আবহ তৈরি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক ফিলিস্তিনি সমর্থক তাদের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বোমায় বিধ্বস্ত ভবন ও অস্থায়ী তাবুর পাশে বড় পর্দায় খেলা দেখছেন গাজার বাসিন্দারা। অনেক শিশুর মুখে মিসরের জাতীয় পতাকা আঁকা ছিল এবং সমর্থকদের হাতে ছিল মিসরের পতাকা।
গাজার বাসিন্দা তামের নাহেদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘জীবনে এই প্রথম এত উত্তেজনা নিয়ে বিশ্বকাপ দেখছি। মিসরের জয় আমাকে ভীষণ আনন্দ দিয়েছে। কিন্তু সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্য ছিল হাজারো মানুষকে ধ্বংসস্তূপ আর তাবু থেকে বের হয়ে একসঙ্গে খেলা দেখা। চারদিকে হাসিমুখ, উল্লাস আর করতালিতে মনে হচ্ছিল, সব কষ্টের মাঝেও মানুষ কিছুক্ষণের জন্য হলেও জীবনকে উদযাপন করতে চেয়েছে।’















