নিজস্ব প্রতিবেদক: ৫ জুলাই ২০২৬ , ১২:২৮:২৯ প্রিন্ট সংস্করণ
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মালয়েশিয়াগামী একটি ফ্লাইটকে ঘিরে রহস্যজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বোর্ডিং পাস সংগ্রহ ও ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করার পরও শেষ মুহূর্তে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ওঠেননি ৭১ জন যাত্রী। এর আগে বোর্ডিং গেটে পাঁচজন যাত্রীর ই-ভিসা জাল বলে শনাক্ত হওয়ার পর ঘটনাটি সামনে আসে।
শনিবার (৪ জুলাই) রাতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ঢাকা-মালয়েশিয়া রুটের বিজি-৩৮৬ ফ্লাইটটি রাত ৮টা ৩৫ মিনিটে বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে যায়। ফ্লাইটটিতে মোট ২৪৫ জন যাত্রীর ভ্রমণের কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত ৭৬ জন যাত্রী বিমানে ওঠেননি।
বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, বোর্ডিং গেটে পাঁচজন যাত্রীর ই-ভিসা জাল বলে শনাক্ত হয়। এরপর বোর্ডিং লাইনে থাকা আরও অনেক যাত্রী সেখান থেকে সরে যান। পরে তাদের অনেকেই ইমিগ্রেশনের প্রস্থান সিল বাতিল করে দেশে ফিরে আসেন। সব মিলিয়ে ৭১ জন যাত্রী স্বেচ্ছায় বিমানে না ওঠার সিদ্ধান্ত নেন।
সূত্র আরও জানায়, বিমানে না ওঠা ৭৬ জন যাত্রীর ভিসা যথাযথভাবে যাচাই ছাড়াই চেক-ইন কাউন্টার থেকে ‘ভেরিফায়েড’ হিসেবে গ্রহণ করে বোর্ডিং পাস ইস্যু করা হয়েছিল। এরপর তারা ইমিগ্রেশনও সম্পন্ন করেন। তবে বোর্ডিং গেটে গিয়ে পাঁচজনের জাল ই-ভিসা ধরা পড়ে।
ঘটনার পর প্রশ্ন উঠেছে, ভিসা যাচাইয়ের একাধিক ধাপ অতিক্রম করার পরও কীভাবে সন্দেহভাজন জাল ভিসাধারীরা চেক-ইন, ইমিগ্রেশন এবং বোর্ডিং গেট পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম হলেন।
বিমানবন্দর-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের দাবি, বিমানে না ওঠা ৭৬ জনই ট্যুরিস্ট ভিসায় মালয়েশিয়া যাচ্ছিলেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, একটি ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে দেশটিতে গিয়ে অবস্থান করার পরিকল্পনা ছিল তাদের।
এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, বোর্ডিং চলাকালে কয়েকজন যাত্রীকে আলাদা করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়। পরে তাদের ভিসায় অসঙ্গতির বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে লাইনে থাকা আরও কয়েকজন যাত্রী সরে যান। কিছুক্ষণ পর কয়েকজনকে আনুষ্ঠানিকভাবে অফলোড করা হলে বোর্ডিং গেট এলাকায় উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করেও হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।





















