প্রচ্ছদ

“আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করে গণতন্ত্র নয়, প্রতিহিংসাই জাগানো হচ্ছে” -ইকোনমিস্ট

  প্রতিনিধি ২৭ জুন ২০২৫ , ৫:৩৫:১৭ প্রিন্ট সংস্করণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আওতায় আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তকে গণতন্ত্র পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মন্তব্য করেছে প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য ইকোনমিস্ট। বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) পত্রিকাটির অনলাইন ও প্রিন্ট সংস্করণে প্রকাশিত এক সম্পাদকীয় নিবন্ধে বলা হয়েছে, ‌**”রাজনৈতিক পুনর্মিলনের বদলে আবার প্রতিহিংসার চক্রে ঢুকে পড়ছে বাংলাদেশ।”**

শিরোনামে বার্তা: “আনব্যান দ্য আওয়ামী লীগ”

দ্য ইকোনমিস্টের প্রিন্ট সংস্করণে সম্পাদকীয় বিভাগ ‘লিডার্স’-এ “আনব্যান দ্য আওয়ামী লীগ” শিরোনামে এবং অনলাইন সংস্করণে “Banning the opposition is no way to revive Bangladesh’s democracy” শিরোনামে নিবন্ধটি প্রকাশিত হয়।

নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়,

“একটি দলীয় সরকারের দীর্ঘ শাসনের পর গণতান্ত্রিক উত্তরণ চেয়েছিল বাংলাদেশের জনগণ। সেই প্রেক্ষাপটে ক্ষমতায় আসা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এখন আবার সেই পুরনো প্রতিহিংসার পথে হাঁটছে।”

আন্তর্জাতিক সমালোচনা ও কূটনৈতিক চাপ

ইকোনমিস্ট লিখেছে, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত একটি বিতর্কিত সন্ত্রাসবিরোধী আইন সংশোধনের মাধ্যমে কার্যকর করা হয়েছে।

“আইনি ও নৈতিকভাবে এটি প্রশ্নবিদ্ধ, এবং রাজনৈতিক প্রতিশোধের নতুন এক ঢেউ ডেকে আনতে পারে।”

এই সিদ্ধান্তে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের কূটনৈতিক মহলে ক্ষোভ বাড়ছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অর্থনীতি ও কূটনীতিতে টালমাটাল বাংলাদেশ

ড. ইউনূসের সরকার অর্থনীতি কিছুটা স্থিতিশীল করতে পারলেও পররাষ্ট্রনীতিতে চীনঘেঁষা অবস্থান এবং ভারতের সঙ্গে উত্তেজনা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে।

“ভারত একটি ট্রানজিট চুক্তি বাতিল করেছে এবং পানি বণ্টন চুক্তি পুনর্বিন্যাসের দাবি জানিয়েছে,” — বলা হয় প্রতিবেদনে।

রাজনীতি পুনর্গঠনের পরিবর্তে প্রতিশোধমূলক ধারা

নিবন্ধে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়, ২০১৮ সালের ভোট কারচুপি, রাজনৈতিক সহিংসতা ও দুর্নীতির অভিযোগে বিদায়ী আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতি জনরোষ ছিল প্রবল।
কিন্তু একই সঙ্গে বলা হয়,

“দলটির নেতারা বিচারের মুখোমুখি হোক — সেটা যৌক্তিক। কিন্তু দলের সাধারণ কর্মীদের রাজনৈতিক পুনর্গঠনের সুযোগ দেওয়া উচিত ছিল। নিষেধাজ্ঞা দিয়ে তা বন্ধ করা অনৈতিক।”

গণতন্ত্রের বিকাশে অংশগ্রহণমূলক রাজনীতির আহ্বান

দ্য ইকোনমিস্ট বলেছে,

“আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করেও বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার সম্ভব নয়। তাদের এখনও বৃহৎ জনভিত্তি রয়েছে। নির্বাচনে হারলেও সংসদে তাদের উপস্থিতি গণতান্ত্রিক ভারসাম্য রক্ষা করবে।”

প্রতিহিংসা নয়, প্রয়োজন পুনর্মিলন

সরাসরি বার্তা দিয়ে লেখা শেষ করা হয়েছে এই বলে—

“নতুন বাংলাদেশ গড়তে প্রতিহিংসার বদলে সহনশীলতা ও পুনর্মিলনের রাজনীতি জরুরি। আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এখন সময়ের দাবি।”

🔗 সূত্র: দ্য ইকোনমিস্ট (২৭ জুন, ২০২৫)

 

আরও খবর

Sponsered content