প্রচ্ছদ

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির সাবেক ৯ মন্ত্রীসহ আওয়ামী সরকারের ৩৯ শীর্ষ নেতা

  প্রতিনিধি ২০ জুলাই ২০২৫ , ১২:২৩:১০ প্রিন্ট সংস্করণ

জুলাই-আগস্টের গণহত্যা মামলায় কঠোর নিরাপত্তায় আদালতে হাজির, তদন্ত চলমান

স্টাফ রিপোর্টার:
জুলাই-আগস্টে সংঘটিত গণহত্যা, নির্যাতন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ৯ মন্ত্রীসহ ৩৯ জনকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। রোববার (১৯ জুলাই) সকালে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে চারটি ভিন্ন কারাগার থেকে আসামিদের আদালতে আনা হয়।

বিভিন্ন কারাগার থেকে প্রিজন ভ্যানে আসামিদের আনা হয়:

  • কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকসহ ১৪ জন

  • কেরানীগঞ্জের বিশেষ কারাগার থেকে এনটিএমসি’র সাবেক পরিচালক জিয়াউল আহসানসহ ১৪ জন

  • কাশিমপুর কারাগার থেকে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. দীপু মনিসহ ১৫ জন

  • নারায়ণগঞ্জ কারাগার থেকে সাবেক পাঠ ও বস্ত্রমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী

ট্রাইব্যুনালে হাজির হওয়া উল্লেখযোগ্য আসামিরা:

  • সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক

  • সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান

  • সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. দীপু মনি

  • সাবেক শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার

  • সাবেক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান

  • সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু

  • সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক

  • সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক

  • প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম)

  • সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম

  • ও একাধিক সাবেক এমপি ও পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা

মামলার পটভূমি:

তাদের বিরুদ্ধে রাজধানীর মুগ্ধ হত্যা মামলা ছাড়াও নরসিংদী, কক্সবাজার, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত গণহত্যা ও দমন-পীড়নের অভিযোগে মোট ৭টি মামলা চলমান রয়েছে। উল্লেখ্য, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ধাপে ধাপে সাবেক এসব শীর্ষ নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রসিকিউশনের বক্তব্য:

প্রসিকিউশন প্যানেলের একজন মুখপাত্র জানান, “তদন্ত এখনো চলমান। তাই ট্রাইব্যুনালে সব মামলার জন্যই সময় প্রার্থনা করা হবে।” তিনি আরও বলেন, “মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া যতটুকু আইনি শর্ত পূরণ করে এগোবে, ততটাই নিশ্চিত করা হবে ন্যায়বিচার।”

আদালত চত্বরে নিরাপত্তা:

আদালত এলাকায় চূড়ান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মোতায়েন করা হয় র‍্যাব, পুলিশ ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য। ভোর থেকেই রাজধানীর ট্রাইব্যুনাল সংলগ্ন এলাকায় জনসাধারণের চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।

আলোচিত এই মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করবেন বিচারপতিমণ্ডলী। তবে ধারণা করা হচ্ছে, তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে আরও সময় লাগবে বলে আদালতে আবেদন জানানো হবে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। মানবতাবিরোধী অপরাধে সাবেক মন্ত্রীদের এভাবে ট্রাইব্যুনালে হাজির হওয়া স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আরও খবর

Sponsered content