সারাদেশ

আমতলীতে সহকারী শিক্ষকদের কর্মবিরতিতে ১৫২ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরীক্ষা বিপর্যস্ত

  মেহেদী হাসান, আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি ২ ডিসেম্বর ২০২৫ , ৪:৪৫:০৯ প্রিন্ট সংস্করণ

 

বরগুনার আমতলী উপজেলা জুড়ে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষা ব্যাহত হচ্ছে সহকারী শিক্ষকদের চলমান কর্মবিরতির কারণে। উপজেলার ১৫২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা কর্মবিরতিতে থাকায় এসব বিদ্যালয়ের ২৪ হাজার শিক্ষার্থীর পরীক্ষায় নেমেছে চরম ভোগান্তি।

জানা গেছে, দশম গ্রেডসহ তিন দফা দাবিতে গত ৮ নভেম্বর থেকে সারা দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। পরে গত ১১ নভেম্বর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেডের প্রতিশ্রুতি দিলে তাঁরা কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত করে ঢাকায় থেকে ফিরে যান। তবে এখন পর্যন্ত প্রতিশ্রুতির কোনো বাস্তবায়ন না হওয়ায় তাঁরা পুনরায় কর্মবিরতি পালন করছেন।

সোমবার থেকে উপজেলার স্কুলগুলোয় শুরু হয়েছে বার্ষিক পরীক্ষা। সহকারী শিক্ষকরা কর্মবিরতিতে থাকায় প্রধান শিক্ষক ও দপ্তরিরা একাই পরীক্ষা পরিচালনা করছেন। ফলে পরীক্ষা কার্যক্রমে শৃঙ্খলা রক্ষা ও পর্যবেক্ষণে ব্যাপক সমস্যা দেখা দিয়েছে।

আমতলী একে হাই-সংলগ্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. একেএম জিল্লুর রহমান বলেন, “সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেডে উন্নীত করার ব্যবস্থা না নেওয়ায় তাঁরা কর্মবিরতিতে আছেন। এতে পরীক্ষার পরিচালনায় বড় ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে।”

আমতলী বন্দর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাকির হোসেন বলেন, “সহকারী শিক্ষকদের দাবি ন্যায্য। তাঁরা পরীক্ষায় কোনো সহযোগিতা করেননি, একাই আমাকে পরীক্ষা নিতে হয়েছে।”

অভিভাবকরা বলেন, “শিক্ষকরা আন্দোলনে গেলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বাচ্চারা। সরকারের উচিত দ্রুত সময়ের মধ্যে তাঁদের দাবি মেনে নেওয়া।”

আমতলী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সফিউল আলম বলেন, “সহকারী শিক্ষকরা কর্মবিরতিতে আছেন, বিষয়টি আমি ইতিমধ্যে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।”

শিক্ষকরা জানিয়েছেন, তাঁদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে—আর তাতে পরীক্ষার অনিশ্চয়তা আরও দীর্ঘ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আরও খবর

Sponsered content