সারাদেশ

আমতলীর পুরাকাটা ফেরিঘাটে বকশিশের নামে চাঁদাবাজি ও অনিয়মের অভিযোগ

  মেহেদী হাসান, আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি ৩ ডিসেম্বর ২০২৫ , ৪:০৮:১৯ প্রিন্ট সংস্করণ

 

বরগুনার আমতলী পুরাকাটা ফেরিঘাটে ফেরি পরিচালনায় বকশিশের নামে চাঁদাবাজিসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। যাত্রী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনিক তদারকির অভাবে ফেরি সার্ভিসে তৈরি হয়েছে বিশৃঙ্খলা, যার ফলে চরম দুর্ভোগে পড়ছেন দুই পারের যাত্রীরা।

সূত্রে জানা যায়, আমতলী পুরাকাটা ফেরিঘাটে ফেরি পরিচালনার জন্য সরকারিভাবে সাতজন স্টাফের পদ থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র তিনজন। এই সুযোগে সুপারভাইজার এস. এম. রাশেদুল হাসান রুবেলের সহযোগিতায় বহিরাগত তিনজনকে দিয়ে পুনর্বিন্যাসহীনভাবে ফেরি পরিচালনা করা হচ্ছে। তাঁর অনুমতিতেই সায়েম ও মনির খালাসীর কাজ এবং মো. নুরুল হক ড্রাইভারের দায়িত্ব পালন করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

যাত্রীরা জানান, বহিরাগত কর্মীরা নিয়মিত সেবা দিচ্ছেন না। নিজেদের ইচ্ছেমতো ফেরি চালু রাখায় ফেরিপারের যাত্রী ও যানবাহনগুলোকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এছাড়া গাড়িপ্রতি ২০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত ‘বকশিশ’ বা চাঁদা আদায়ের অভিযোগও আছে।

স্থানীয়রা আরও জানান, দায়িত্বপ্রাপ্ত সুপারভাইজার এস. এম. রাশেদুল হাসান রুবেল বাস্তবে ঘাটে উপস্থিত হন না। তিনি বরগুনা থেকে বসেই ফেরি পরিচালনার নির্দেশনা দেন এবং ফেরি পরিচালনা তাঁর ব্যক্তিগত ইচ্ছা অনুযায়ী হয়। এতে যাত্রীদের ভোগান্তি দিন দিন বাড়ছে।

এ বিষয়ে বহিরাগত কর্মী সায়েম বলেন, “সুপারভাইজার এস. এম. রাশেদুল হাসানের তত্ত্বাবধানে আমরা তিনজন কাজ করছি।”

অন্যদিকে, সুপারভাইজার এস. এম. রাশেদুল হাসান রুবেল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”

বরগুনার সওজ (সড়ক ও জনপথ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সম্ভু তালুকদার বলেন, “এ বিষয়ে আমার জানা ছিল না। তবে অভিযোগের বিষয়টি যাচাই করে দেখা হবে, প্রমাণ পাওয়া গেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি ও নজরদারি না থাকলে ফেরিঘাটের এই অনিয়ম অব্যাহত থেকে জনগণের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।

আরও খবর

Sponsered content