প্রতিনিধি ১৯ আগস্ট ২০২৬ , ১:০৫:২৪ প্রিন্ট সংস্করণ
ইরান থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে লক্ষ্য করে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার অভিযোগের পর তেহরানের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক ও আর্থিক লেনদেন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে আবুধাবি। তবে ইরান এ অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। বার্তাসংস্থা আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
বুধবার ভোরে দেওয়া এক বিবৃতিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলা সাম্প্রতিক উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য, বাণিজ্যিক বিনিময় এবং আর্থিক লেনদেন বন্ধ থাকবে।
এর আগে আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরান থেকে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে। এর একটি আমিরাতের আঞ্চলিক জলসীমার বাইরে এবং অন্যটি জলসীমার ভেতরে গিয়ে পড়েছে বলে দাবি করা হয়।
পরবর্তী এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় অভিযোগ করে, ক্ষেপণাস্ত্র দুটি সমুদ্রপথে চলাচলকারী জাহাজকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল। দেশের নিরাপত্তা বা আঞ্চলিক নৌ চলাচল বিঘ্নিত করার যেকোনো প্রচেষ্টা কঠোরভাবে মোকাবিলার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।
আমিরাতের অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, এটি চলমান যুদ্ধের মধ্যে একটি ‘ফলস ফ্ল্যাগ অপারেশন’ হতে পারে।
তিনি বলেন, এ ধরনের অভিযোগ প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তেহরানের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ থেকে বিরত থাকতে আঞ্চলিক দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
বাঘাই আরও বলেন, পরিস্থিতির সঠিক মূল্যায়ন করতে হলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ‘ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড’ও বিবেচনায় নিতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনার জন্য নির্ধারিত ৬০ দিনের সময়সীমা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হওয়ার এক দিন পর মঙ্গলবারের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ সামনে আসে। পাঁচ মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা এই সংঘাতে প্রথম ছয় সপ্তাহে উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ইরানি হামলার মুখে পড়েছিল আমিরাত।
ওই সময়ে ইরান আমিরাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে ৫৩০টির বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, কয়েক ডজন ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২ হাজার ২০০টির বেশি ড্রোন ছোড়ার দাবি করেছিল। মে মাসের পর আমিরাতকে লক্ষ্য করে এটিই প্রথম হামলার ঘটনা বলে জানিয়েছে আবুধাবি।
এর কয়েক দিন আগেই আমিরাত অভিযোগ করেছিল, হরমুজ প্রণালিতে তাদের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি বা এডনকের দুটি জাহাজে ইরান হামলা চালিয়েছে। তবে ওই হামলার দায় এখনো স্বীকার করেনি তেহরান।
আমিরাতের নতুন বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা ইরানের ওপর বড় ধরনের অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। সাবেক মার্কিন জেনারেল ও সাবেক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক কিমিটের মতে, ওয়াশিংটনের আরোপ করা নিষেধাজ্ঞার চেয়েও আমিরাতের এই পদক্ষেপ তেহরানের জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
তার মতে, দুবাই নীরবে ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদারে পরিণত হয়েছে। চীন ও তুরস্ককেও ছাড়িয়ে ইরানের মোট আমদানির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সরবরাহের সঙ্গে দুবাইয়ের বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে বলে তিনি জানান।
যুদ্ধ শুরুর কয়েক দিন পর মার্চের শুরুতে আমিরাত দুই দেশের মধ্যে সরাসরি পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছিল। পরে জুনের শেষ দিকে দুবাইয়ের জেবেল আলী বন্দর দিয়ে আবার বাণিজ্য শুরু হয়।





















