প্রতিনিধি ২০ ডিসেম্বর ২০২৩ , ৬:২২:৩৯ প্রিন্ট সংস্করণ
স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানী ঢাকার কাফরুল থানাধীন এলাকায় জুট ব্যবসায় নিয়ে বিরোধে ৩ জনকে হত্যা করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, মৌসুমী গার্মেন্টস’ নামীয় একটি জুট মিল ব্যবসা শুরু করেন রহমান, ইমু, টিপু ও নিষাদ। ব্যবসা শুরুর কিছু দিন যেতে না যেতেই নানা বিষয়ে মতপার্থক্যের জেরে তিন জনকে হত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রহমান, ইমু, টিপুর সঙ্গে নিষাদের নানা বিষয়ে ঝামেলা হতে থাকে। ব্যবসায়িক হিসাবে গড়মিল, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার সহ বিভিন্ন ইস্যুতে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
এরই ধারাবাহিকতায় নিষাদের সঙ্গে অন্যান্য ব্যবসায়িক পার্টনারদের লাভ-লসের হিসাব নিয়ে চরম বাকবিতন্ডার সৃষ্টি হলে নিষাদ তার রাজনৈতিক প্রভাব দেখাতে থাকে এবং অন্যান্য ব্যবসায়িক পার্টনারদের ব্যবসা থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেয়। এ নিয়ে বেশ কয়েকবার সমঝোতা করার চেষ্টা হলেও সম্ভব হয়নি।
পরবর্তীতে গার্মেন্টসে নতুন জুট এলে রহমান, ইমু ও টিপু ট্রাক থেকে জুট নামানোর সিদ্ধান্ত নেয়। জুট নামানোর সময়ে নিষাদ ও তার ভাই পাপ্পুসহ তাদের দলীয় সন্ত্রাসীরা মিলে রহমান, ইমু, টিপু ও তাদের শ্রমিকের উপর অস্ত্রসহ অর্তকিত আক্রমণ করলে সবাই আহত হয়। এবং ঘটনাস্থলে শাহাজালাল নামে এক শ্রমিক নিহত হয়।
খবর পেয়ে কাফরূল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে আসেন। ঘটনাস্থালে পুলিশ শাহাজালাল নামের শ্রমিকের লাশ দেখতে পেয়ে ঢাকা মেডিকেলের মর্গে লাশ পাঠায়। অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামী করে কাফরূল থানায় ১০ ডিসেম্বর হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। উক্ত মামলা তদন্তাধীন রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, পাপ্পু ও তার সঙ্গীয় কয়েকজন সন্ত্রাসীরা রহমান, ইমু, টিপু ও শ্রমিকদের হামলা করতে গেলে তারা গামের্ন্টসের পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যায়। তাদের ধাওয়া করতে গেলে পাপ্পু ও তার সঙ্গী পলাশ পেছনের দরজা দিয়ে পড়ে গিয়ে মারাত্মকভাবে আহত হয়। পরে তাদের হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।
স্থানীয় থানায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঘটনার পরের দিন অর্থাৎ ১১ ডিসেম্বর নিষাদ পাপ্পু ও পলাশ হত্যার জন্য বাদী হয়ে পুলিশের নিকট রহমান, ইমু, টিপুসহ আরো ১০ জনকে আসামী দেখিয়ে মামলা দায়ের করেন।
মামলা করার পর নিষাদ তার সন্ত্রাসী দলবল নিয়ে রহমান, ইমু ও টিপুর বাড়িঘর ভাঙচুর করে এবং জানে মেরে ফেলার হুমকি দেয় নিষাদ গ্রুপ ।
এদিকে পুলিশ রহমান, ইমু ও টিপুদের এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি। ঘটনার পর থেকেই তারা পলাতক রয়েছে।





















