সারাদেশ

ঠাকুরগাঁওয়ে মেডিকেল কলেজ স্থাপনের নীতিগত সিদ্ধান্ত, জেনারেল হাসপাতাল হচ্ছে ৫০০ শয্যার

  হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি : ৩ মার্চ ২০২৬ , ৫:৫৪:১৮ প্রিন্ট সংস্করণ

 

উত্তরের সীমান্তঘেঁষা জেলা ঠাকুরগাঁও-এ অবশেষে একটি মেডিকেল কলেজ স্থাপনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে বর্তমানে ২৫০ শয্যার ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতাল-কে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

রোববার (১ মার্চ) সকালে হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, “ঠাকুরগাঁওসহ পার্শ্ববর্তী জেলার মানুষের জন্য মানসম্মত ও আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা এ অঞ্চলের দীর্ঘদিনের দাবি—এবার তা বাস্তবায়নের পথে এগোবে।”

মন্ত্রী জানান, মেডিকেল কলেজ চালুর পূর্বশর্ত হিসেবে হাসপাতালের অবকাঠামো সম্প্রসারণ, শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম সংযোজন অপরিহার্য। এ লক্ষ্যে হাসপাতালকে পরিচ্ছন্ন ও রোগীবান্ধব পরিবেশে রূপান্তরের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, আধুনিক ডায়াগনস্টিক যন্ত্রপাতি সংযোজন ও আইসিইউ সুবিধা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় চাহিদাপত্র পাঠালে দ্রুত অনুমোদন ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি রোগী ও স্বজনদের চলাচল সহজ করতে একটি লিফট স্থাপনের বিষয়েও জেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

একই কর্মস্থলে তিন বছরের বেশি সময় চিকিৎসকদের কর্মরত থাকার বিধিনিষেধ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, “দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ১০–১২ দিন হয়েছে। বিষয়টি আমরা গুরুত্বসহকারে দেখছি। ধীরে ধীরে সবকিছু নিয়মের মধ্যে আনা হবে।”

তিনি আরও জানান, চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা, সেবার মান উন্নয়ন এবং রোগীদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পরিদর্শনকালে মন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানা, পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন, স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা এবং বিএনপির জেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

দীর্ঘদিন ধরে ঠাকুরগাঁও জেলাবাসী একটি পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল কলেজের দাবিতে সোচ্চার ছিল। বর্তমানে জটিল রোগের চিকিৎসার জন্য রোগীদের দিনাজপুর, রংপুর কিংবা ঢাকায় যেতে হয়, যা সময় ও অর্থ—উভয় দিক থেকেই কষ্টসাধ্য।

প্রস্তাবিত মেডিকেল কলেজ চালু হলে স্থানীয়ভাবে এমবিবিএস শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি হবে, বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য হবে এবং নতুন কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র তৈরি হবে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের স্বাস্থ্যখাতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ও সচেতন মহল।

আরও খবর

Sponsered content